দেশ

সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা কালীঘাটের, ফিরল না জোড়াফুল! প্রতীক যুদ্ধে বড় পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের

মমতাপন্থীদের আর্জি উড়িয়ে বড় বার্তা! কতদিনের মধ্যে মিটবে তৃণমূলের প্রতীক যুদ্ধ? জবাব চাইল শীর্ষ আদালত!

Truth of Bengal: উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই হাইভোল্টেজ ‘প্রতীক যুদ্ধ’ ঘিরে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি! তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করার যে নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন, বৃহস্পতিবার তাতে কোনও প্রকার হস্তক্ষেপ করতে সরাসরি অস্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে শীর্ষ আদালতেও ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। তবে একই সঙ্গে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অনন্তকাল সময় না ঝুলিয়ে রেখে দ্রুত এবং সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই প্রতীক জট মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিতর্কিত এক আদেশে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেয়। স্পষ্ট জানানো হয়, মমতাপন্থী শিবির কিংবা বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী, কেউ-ই আসন্ন উপনির্বাচনে এই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিল মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি চলাকালীন কালীঘাট শিবিরের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “উপনির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশন কীভাবে এমন একটি একতরফা অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারে?” জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সাফ জানিয়ে দেন, যেহেতু উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি হয়ে গিয়েছে, তাই কমিশনের এই প্রশাসনিক নির্দেশে আদালত এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ ঋত শিবিরের আইনজীবী মুকুল রোহতগি যখন মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বিরোধে কমিশনের নেওয়া একই ধরনের ফ্রিজিং সিদ্ধান্তের নজির তুলে ধরেন, তখন বিচারপতি বাগচী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, “শিবসেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার কী ভয়ঙ্কর পরিণতি হয়েছিল, তা আমরা সবাই দেখেছি।”

এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কমিশনের প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডুকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “উভয় পক্ষের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখতে সময়ের প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু প্রতীক বিবাদ নিষ্পত্তিতে যেন অনাবশ্যক বিলম্ব না হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনের ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা দ্রুত জানান।”

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের মধ্যে বড়সড় ভাঙন ধরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট’ ও প্রাক্তন দলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঋত’, উভয় শিবিরই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে কমিশনে যায়। কমিশন প্রতীক ফ্রিজ করার পর উপনির্বাচনের লড়াইয়ে মমতাপন্থীরা ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে নামছেন; অন্যদিকে বিদ্রোহী ঋত শিবির ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে ময়দানে নেমেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে।

Related Articles