উৎসবের মরশুমে কড়া বম্বে হাই কোর্ট! প্রকাশ্যে আতসবাজি ও লেজার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
উৎসবের সময়ে খোলা রাস্তা কিংবা জনসমক্ষে আতসবাজি পোড়ানো যাবে না
Truth of Bengal: উৎসবের মরশুম এলেই মহারাষ্ট্রের একাধিক শহরে বায়ু ও শব্দদূষণ ভয়াবহ আকার নেয়। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার কড়া নির্দেশ দিল বম্বে হাই কোর্ট। বিচারপতি জিএস কুলকার্নি এবং বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসবের সময়ে খোলা রাস্তা কিংবা জনসমক্ষে আতসবাজি পোড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছে লেজার রশ্মির ব্যবহারও।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধু আতসবাজিই নয়, জনসমক্ষে ‘হাই-ইনটেনসিটি’ বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল লুমেন লাইট এবং শক্তিশালী বিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শব্দের মাত্রা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে না—এমন অভিযোগও আদালতের নজরে এসেছে। সেই কারণেই অনুষ্ঠানস্থলে সাউন্ড লিমিটার ও ডেসিবেল মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ১ লক্ষ টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, শুধু নিয়ম তৈরি করলেই হবে না, তা যাতে বাস্তবে কার্যকর হয়, সেটাও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। মুম্বই, পুণে, থানে, নাসিকের মতো বড় শহরে শব্দ ও দৃশ্যদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, আতসবাজি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আগেও একাধিক আইন ও বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু সেগুলি কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনীহা দেখা গিয়েছে। এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্য নজরদারি আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে। দীপাবলির সময়ে বাজি নিষিদ্ধ করা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারকে পিছু হটতে হয়েছে। তবে এবার আদালতের নির্দেশে আতসবাজি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা মূলত খোলা রাস্তা ও জনসমক্ষে বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে। ব্যক্তিগত পরিসরে আতসবাজি ব্যবহার করা যাবে বলেই নির্দেশে জানানো হয়েছে।





