সিসিটিভিতে ১০৫ বার ধরা পড়েছে চুরি, তাও চুপ ছিল ট্রাস্ট! রাম মন্দিরে ৩,০০০ কোটির চুরিতে সুপ্রিম কোর্টে হুলস্থুল!
৩,৫০০ কোটি টাকার নগদ ও সোনা-রুপোর গয়না গায়েব! শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত
Truth of Bengal: দেশের কোটি কোটি রামভক্তের আবেগ ও শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির। কিন্তু সেই পবিত্র রাম মন্দিরেই ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নগদ প্রণামী ও সোনা-রুপোর অলঙ্কার চুরির নজিরবিহীন ঘটনায় কাঁপছে গোটা দেশ। নিটোল ও ত্রিস্তরী নিরাপত্তা বেষ্টনীকে কীভাবে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে অঢেল ধনরাশি লুঠ হল, সেই প্রশ্ন যখন বারবার উঠছিল, ঠিক তখনই সর্বোচ্চ আদালতে তদন্তকারী সিট (SIT)-এর তরফে পেশ করা রিপোর্ট প্রকাশ পেতে উঠে এলো শিউরে ওঠার মতো বিস্ফোরক তথ্য! জানা গিয়েছে, রাম মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজেই অন্তত ১০৫ বার স্পষ্ট ধরা পড়েছে চুরির ঘটনা! তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেই রহস্যে ঘনিয়েছে চরম সন্দেহ।
মাস তিনেক আগে ভক্তদের দেওয়া ৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি নগদ প্রণামী ও দান করা বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়নার একটি বড় অংশের কোনো হিসেব না মেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। উত্তরপ্রদেশ ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এই নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়। শাসকদল বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) ভূমিকাকে চরম তুলাধোনা করে সরব হয় বিরোধী কংগ্রেস-সহ একাধিক দল। জল এতদূর গড়ায় যে খোদ সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকার, উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে কড়া নোটিস পাঠায়। চুরির দায় ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার নৈতিক দায় নিয়ে ইতিমধ্যে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পত রাই।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই হাইভোল্টেজ মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের (SIT) সাম্প্রতিক স্ট্যাটাস রিপোর্ট পাঠ করে শোনান কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। ওই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে অন্তত ১০৫টি পৃথক চুরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ভিডিও ফুটেজের সোর্স ধরেই একাধিক অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে। আগামি শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে সিটের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে, যেখানে চুরির এই মহা-কেলেঙ্কারির আরও হাঁড়ির খবর সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সিট রিপোর্টের পরই রাম মন্দির ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি ঘটনার সময়েই ক্যামেরায় বারবার চুরি আটকানো যেত এবং অন্তত ১০৫ বার সিসিটিভিতেই চুরির সরাসরি ছবি ধরা পড়েছিল, তবে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হল না কেন? ক্যামেরার নজরদারির অন্তরালে ট্রাস্টের অন্দরে আর কত কোটি টাকার নয়ছয় ও কুকীর্তি ঘটেছে, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।





