কলকাতা

বন্ধ সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট! পড়ুয়াদের হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ, কবে খুলবে?

সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্মও আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ

Truth of Bengal: পড়ুয়া ও কর্তৃপক্ষের সংঘাতের জেরে ফের বাড়ল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) বন্ধ থাকার মেয়াদ। আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস। পঠন-পাঠন থেকে শুরু করে সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্মও আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের হস্টেল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে বন্ধের সময়সীমা বাড়ানোর কথা জানানো হয়। বহিরাগতদের প্রবেশকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত SRFTI ক্যাম্পাস। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পড়ুয়াদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধের দাবিতে সরব হন পড়ুয়ারা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে ক্লাস বয়কটও শুরু হয়।

এরপর ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসের বাইরে আরেকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনার পর উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। ক্রমশ বাড়তে থাকে পড়ুয়া ও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দূরত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পঠন-পাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় মেস পরিষেবাও। এবার সেই সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হল।

অন্যদিকে, বহিষ্কৃত কয়েকজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা এবং অন্যান্য আধিকারিকদের শারীরিক নিগ্রহ, উপাচার্যের দফতরে ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আপত্তিকর গ্রাফিতি লেখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পুজোর সময়েও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পড়ুয়াদের আন্দোলন বন্ধ করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবি, উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের জেরেই আপাতত বন্ধ থাকছে প্রতিষ্ঠানের দরজা। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে স্থিতাবস্থা ফিরলে ফের পঠন-পাঠন ও অন্যান্য কাজকর্ম শুরু করা হবে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Related Articles