রাম মন্দিরের ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা চুরি! অখিলেশের নালিশের পরই অযোধ্যায় লঙ্কা-কাণ্ড
রাম মন্দিরের দান করা টাকায় কেনা হল বিলাসবহুল গাড়ি ও জমি! গোপন অভিযানে উদ্ধার দেড় কোটি, তোলপাড় অযোধ্যা
Truth of Bengal: অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি রামভক্ত ও সনাতনীদের দান করা অর্থ নিয়ে এক ভয়ংকর ও চাঞ্চল্যকর চুরির অভিযোগ সামনে এল। সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদবের বিস্ফোরক দাবির পর নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। আর তার পরেই এক অত্যন্ত গোপন ও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এই কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, তা এখনও সরকারিভাবে খোলসা না করলেও, রাম মন্দির ট্রাস্ট ও পুলিশ যৌথভাবে মন্দিরের ৯ জন কর্মীকে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি নজরদারির তালিকায় রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
অখিলেশের একটি টুইট এবং নবান্নে হুলস্থুল
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার, যখন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে সরাসরি মোদি সরকার ও মন্দির ট্রাস্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি লিখেছিলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের ও লজ্জার খবর। রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে, অথচ সরকার সম্পূর্ণ নীরব।’ এই ঘটনায় দেশের আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন তিনি। অখিলেশের এই পোস্ট জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলতেই নড়েচড়ে বসে দিল্লি।
দিল্লির নির্দেশে অযোধ্যায় এসবিআই কর্তাদের সঙ্গে মেগা বৈঠক
সূত্রের খবর, অভিযোগ সামনে আসার পর পরই দিল্লি থেকে তড়িঘড়ি অযোধ্যায় ছুটে আসেন মন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্র এবং সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। তাঁরা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) অযোধ্যা শাখার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন এবং ভক্তদের দানের অ্যাকাউন্টের যাবতীয় খতিয়ান ও অডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। মঙ্গলবার তাঁরা সমস্ত তথ্য নিয়ে দিল্লি ফিরে যাওয়ার পরেই শুরু হয় পুলিশের এই গোপন ও ঝটিকা অপারেশন।
হুইল চেয়ারে করে টাকা পাচার? রাডারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য। গোয়েন্দাদের অনুমান, যে সমস্ত কর্মীরা শারীরিকভাবে অক্ষম বা বয়স্ক তীর্থযাত্রীদের হুইল চেয়ারে করে মন্দিরের গর্ভগৃহে নিয়ে যেতেন, তাঁদেরই একটি অংশ সুকৌশলে দানবাক্স ও কাউন্টার থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকা পাচার করতেন। সন্দেহভাজন কয়েকজন কর্মীর সম্পত্তি গত কয়েক মাসে হঠাৎ রকেট গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ট্রাস্টের নজরে আসে। অভিযোগ, মন্দিরের টাকা হাতিয়ে সেই টাকা দিয়ে জমি, বিলাসবহুল বাড়ি এবং দামি গাড়ি কেনা হয়েছে। বর্তমানে অযোধ্যার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে থাকা ওই সন্দেহভাজন কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রামভক্তদের আবেগের সঙ্গে জড়িত এই স্পর্শকাতর মামলার শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে।






