দেশ

সীমান্ত সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী সেনা, অগ্নিবীরদের মেয়াদ বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে সেনা মোতায়েন, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ নয়াদিল্লি

Truth of Bengal: লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ। দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তে চিনের আগ্রাসী মনোভাবের মোকাবিলায় বরাবরই সতর্ক ভারত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের সঙ্গে সংঘাতের একাধিক নজির রয়েছে। সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে সেনা মোতায়েন, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের দিক থেকেও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতীয় সেনার শক্তি ও প্রস্তুতির বিষয়টি আরও একবার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের।

সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জওয়ানদের অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি সময় কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই অগ্নিবীরদের পরিষেবার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সেনার সর্বাধিনায়ক এনএস রাজা সুব্রমণি জানান, অগ্নিবীরদের বর্তমান চার বছরের পরিষেবার মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ, এবার থেকে মোট ছ’বছর পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন তাঁরা। এই প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভারও অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন সিডিএস।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীতে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত জওয়ানের সংখ্যা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অস্ত্র পরিচালনা থেকে শুরু করে সীমান্তে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিজ্ঞতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে অগ্নিবীরদের পরিষেবার মেয়াদ বাড়লে তাঁদের অর্জিত দক্ষতা আরও দীর্ঘ সময় দেশের নিরাপত্তার কাজে লাগানো সম্ভব হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অতিরিক্ত দু’বছরের পরিষেবা শেষ হওয়ার পর অগ্নিবীরদের সামনে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগও থাকছে বলে জানিয়েছেন সিডিএস।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় তরুণদের নিয়োগের জন্য অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে তরুণ, কর্মক্ষম এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করা। সেই প্রকল্পের আওতায় চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয় অগ্নিবীরদের। চার বছর শেষে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং সেনাবাহিনীর প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতিটি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে নিয়মিত সেনায় রাখার ব্যবস্থা ছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দেশসেবার মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্র। এবার সেই প্রকল্পেই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের ।