কলকাতা

“ভারী শিল্প আর স্টার্টআপ ছাড়া বাংলার মুক্তি নেই!” গণেশপুজোয় বড় শিল্পসংকেত শমীকের

বাংলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

Truth of Bengal: দীর্ঘদিনের শিল্পস্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাকে নতুন করে বিনিয়োগের মানচিত্রে তুলে ধরাই এখন রাজ্যের বিজেপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক শিল্পপ্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে। পুজোর আগেও আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্পের সূচনা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এর মধ্যেই বাংলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গণেশপুজোর এক অনুষ্ঠানে বাংলার শিল্পায়ন প্রসঙ্গে শমীক বলেন, রাজ্যের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে ভারী শিল্প এবং স্টার্টআপ—দুই ক্ষেত্রেই জোর দিতে হবে। তাঁর কথায়, “ভারী শিল্প ও স্টার্টআপ ছাড়া বাংলার মুক্তি নেই। গণপতির কাছে সেই প্রার্থনাই করছি।”

বাংলায় বড় বিনিয়োগ আসছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকের জন্য ফের মুম্বই যাওয়ার কথাও জানান তিনি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাশিয়ার সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে শমীক বলেন, খুব শীঘ্রই বাংলায় রুশ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ছবি দেখা যেতে পারে। তাঁর দাবি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং ডেটা সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। পাশাপাশি অন্য ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে শিল্পায়নের পুরো চিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না বলেও স্বীকার করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকারও তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের কোনও দাবি করেনি। তবে প্রশাসনিক পরিবেশে বদল এসেছে বলেই তাঁর দাবি। শমীকের কথায়, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। কিছুটা সময় দিলে মানুষই বুঝতে পারবেন যে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই শিল্প ও বিনিয়োগে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। এরপর পুরুলিয়া থেকে ডানকুনি—রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা ও শিলান্যাস হয়েছে। বিজেপির দাবি, সেই ধারাবাহিকতাতেই বাংলায় নতুন শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, পুজোর আগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের একটি নতুন প্ল্যান্টের উদ্বোধনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে সংস্থার কর্তা পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথাবার্তা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী ১৪ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে।

Related Articles