রাজ্যের খবর

১০ লাখ মানুষকে নিয়ে হবে ব্রিগেডে ধর্মসভা! লিলুয়ায় বাগেশ্বর বাবাকে পাশে বসিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর

লিলুয়ায় জনজোয়ারের মাঝে হনুমান চল্লিশা পাঠ! আগামীদিনে বাগেশ্বর বাবাকে জমি ও সাহায্যের বড় আশ্বাস

Truth of Bengal: রাজ্যে বেআইনি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের জিরো টলারেন্স নীতি ও অত্যন্ত কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে প্রশাসন। এবার সেই অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ টেনেই লিলুয়ায় আয়োজিত ‘বাগেশ্বর ধাম সরকার’ পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মেগা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাৎপর্যপূর্ণ বয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি অতীত সরকারের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বাগেশ্বর বাবাকে আগামী দিনে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে মহাসভা করার আনুষ্ঠানিক আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

হাওড়ার লিলুয়ায় রেলওয়ে ওয়ার্কশপ মাঠে আয়োজিত এই বিশাল ধর্মীয় সভায় বিপুল সংখ্যক অনুরাগী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। সেখানে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই, বালির বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিং-সহ একাধিক নেতৃত্ব। মঞ্চে উঠে বাগেশ্বর বাবাকে উত্তরীয়, তাজা ফুলের স্তবক, মিষ্টি এবং একটি সুদৃশ্য রূপোর গদা উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ও উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে হনুমান চল্লিশা পাঠেও অংশ নেন তিনি।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ববর্তী তৃণমূল জমানাকে তীব্র নিশানা করে বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বাগেশ্বর বাবা কলকাতায় এসে ব্রিগেডে ধর্মসভা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে সেই সভা করার অনুমতি দেয়নি, নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই দিন আর নেই। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রবাদী ও সনাতন ভাবাপন্ন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন এখানে হিন্দু ধর্মের প্রচার ও চর্চা করতে আর কোনো ভয় বা বাধা নেই।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন যে, বাগেশ্বর বাবা চাইলে ভবিষ্যতে ১০ লক্ষ সনাতনী ভক্তকে নিয়ে ব্রিগেডে বিশাল সমাবেশ করতে পারেন, রাজ্য সরকার তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ব্যবস্থা করবে। একইসঙ্গে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর বিভিন্ন সেবামূলক ট্রাস্টের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাগেশ্বর ধাম সারা দেশজুড়ে ক্যানসার হাসপাতাল থেকে শুরু করে নানাবিধ সামাজিক ও সেবামূলক কাজ পরিচালনা করছে। তারা যদি পশ্চিমবঙ্গেও কোনও হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায়, তবে রাজ্য সরকার জমি ও অন্যান্য সমস্ত প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।”

Related Articles