আকাশ থেকে নেমে এলেন স্বয়ং ঈশ্বর! হড়পা বানে শতাধিক প্রাণ বাঁচিয়ে নেপালের ‘হিরো’ প্রিয়া অধিকারী
২০১৫-র ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ উদ্ধারকাজ! দুর্গম উপত্যকায় কপ্টার উড়িয়ে নেপালে অলৌকিক কান্ড ঘটালেন প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন
Truth of Bengal: প্রলয়ংকারী হড়পা বানে চারদিকে শুধুই শ্মশানের নীরবতা, ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানোর আর্তনাদ। সড়কপথ ও সেতু সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নেপালের দুর্গম রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার হাজার হাজার মানুষ যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো আকাশে ভেসে উঠল একটি হেলিকপ্টার। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে নিজের জীবন বাজি রেখে শয়ে শয়ে মানুষকে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন ৪১ বছর বয়সী প্রিয়া অধিকারী, যিনি নেপালের ইতিহাসের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন। বর্তমানে কাঠমান্ডু থেকে দূরবর্তী পাহাড়ি উপত্যকা, সর্বত্রই তিনি পরিচিত ‘ঈশ্বরের দূত’ হিসেবে।
গত ২৬ আগস্ট নেপালে নেমে আসা মারাত্মক হড়পা বান ও ধসের পর উদ্ধারকাজ চালানোর একমাত্র পথ ছিল আকাশপথ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে অবিচল থেকে একটানা প্রায় ছয় দিন আকাশে কপ্টার উড়িয়েছেন প্রিয়া। সম্পূর্ণ প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে ১০০টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া বলেন, “২০১৫ সালের প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পের চেয়েও এই হড়পা বানের পর উদ্ধারকাজ চালানো ছিল বহুগুণ কঠিন। কারণ সম্পূর্ণ ধ্বংসলীলাটি একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে কপ্টার নামানো ছিল অসম্ভব চ্যালেঞ্জিং। একটানা অপারেশনে আমরা ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।”
প্রিয়া একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ‘হাই-অল্টিটিউড’ কপ্টার পাইলট। এর আগেও হিমালয়ের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পর্বতারোহীদের উদ্ধার করা থেকে শুরু করে দুর্গম অঞ্চলে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। হিমালয়ের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত কপ্টার ওড়ানোর বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
তবে আজকের এই সাফল্য ও সাহসিকতার পেছনের পথটি প্রিয়ার জন্য সহজ ছিল না। পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্রী প্রিয়া প্রাথমিক জীবনে কেবিন ক্রু হিসেবে বিমান সংস্থায় যোগ দেন। তবে জীবনে প্রথমবার হেলিকপ্টারে চড়ার পরেই তাঁর মনে পাইলট হওয়ার তীব্র বাসনা জাগে। স্বপ্নপূরণে তিনি ফিলিপিন্সে গিয়ে কপ্টার চালানোর কঠিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সমস্ত ‘ফ্লাইং আওয়ার্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে পেশাদার হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে যাত্রা শুরু করেন প্রিয়া। বর্তমানে মহাপ্রলয়ে বিধ্বস্ত নেপালে তাঁর এই সাহসিকতা বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হচ্ছে।






