আন্তর্জাতিক

প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত নেপাল, বালেন্দ্রকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস মোদির

৩১ জনের মৃত্যু, তলিয়ে গেল আস্ত সেতু! হিমালয়ের দেশে ভয়ংকর তাণ্ডবে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত!

Truth of Bengal: পাহাড়ি দেশে প্রকৃতির নজিরবিহীন তাণ্ডব! মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং আকস্মিক হড়পা বানে রীতিমতো ছারখার হয়ে গিয়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। প্রাকৃতিক এই মহা-বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে সরাসরি টেলিফোন করে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি বিপদের দিনে ভারতের পক্ষ থেকে সব ধরনের মানবিক ও কারিগরি সাহায্যের পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলেছি। নেপালে সাম্প্রতিক বন্যায় যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য গভীর সমবেদনা জানাই। এই সংকটকালে ভারতের প্রতিটি নাগরিক নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে।” মোদি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে দ্রুতগতি আনতে ভারতীয় দলগুলি নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।

বিপর্যয়ের মূল সূত্রপাত চিনের অন্তর্ভুক্ত তিব্বতে। তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে হু হু করে নেমে আসা প্লাবনের জল তছনছ করে দেয় নেপালের রসুয়া জেলাকে। কাঠমান্ডু থেকে ১২৫ কিমি দূরের এই রসুয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে বিপজ্জনক নদী ‘ভোটেকোশী’। বুধবারে নদীটির জলস্তর হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় বেড়ে গিয়ে তিমুর এবং স্যাফ্রুবেসি এলাকায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। নদী সংলগ্ন বহু বসতবাড়ি, যানবাহন এবং মূল সড়ক সংযোগকারী একটি সেতু নিমেষের মধ্যে নদীর প্রবল তোড়ে ভেসে যায়। চিনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’ নিশ্চিত করেছে যে তিব্বতের গাইরং প্রদেশও এই বিপর্যয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বন্যা কবলিত অঞ্চল থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় কৈলাসযাত্রী। শুধু পর্যটকই নন, রসুয়া সীমান্ত পাহারায় থাকা নেপাল পুলিশের ২৬ জন সদস্য এবং ৭ জন আধাসেনা জওয়ানেরও কোনও হদিস মিলছে না। হিমবাহের জলাধার ভাঙা জল বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’-এর কারণেই এই আকস্মিক দুর্যোগ কি না, তা খতিয়ে দেখছে নেপালের হাওয়া অফিস। প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের নির্দেশে সেনা, রেড ক্রস ও স্কাউট দল উদ্ধারকাজ সচল রেখেছে।

Related Articles