‘বামপন্থীদের হাত ধরেই দেশে আরশোলা হয়’, বিস্ফোরক দিলীপ
বামপন্থীদের 'আরশোলা ও ছারপোকার জন্মদাতা' বলে কটাক্ষ করে মন্ত্রী দাবি করেন, সমাজকে বিভ্রান্ত করতে এবং অশান্তি ছড়াতেই এদের আবির্ভাব।
Truth Of Bengal: ‘কমিউনিস্টরা দেশদ্রোহী’— গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ তুলে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই বিতর্ক ও ডান-বাম রাজনীতির দ্বন্দ্বে নতুন করে আগুনে ঘি ঢাললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কমিউনিস্টদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বামপন্থীদের ‘আরশোলা ও ছারপোকার জন্মদাতা’ বলে কটাক্ষ করে মন্ত্রী দাবি করেন, সমাজকে বিভ্রান্ত করতে এবং অশান্তি ছড়াতেই এদের আবির্ভাব।
মঙ্গলবার ইকো পার্কে দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘রাতারাতি এই আরশোলারা কোত্থেকে ভেসে আসছে? এসবই আসলে কমিউনিস্টদের মস্তিষ্কপ্রসূত। বামপন্থীদের হাত ধরেই সমাজে দেশদ্রোহী ও ছারপোকাদের জন্ম হয়। এরা ছাত্র আন্দোলনের ভান করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। দিল্লিতে কী ঘটেছে তা সবাই দেখেছে। তবে আমাদের রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক। বাংলায় আন্দোলনের নামে অশান্তি বা হিংসা ছড়ানোর কোনো চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না, কড়া হাতে রুখে দেওয়া হবে।”
দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের আসল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত সোমবার বাঁকুড়ার ইন্দাসে। সেখানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র কর্মী শেখ আব্দুল হাফিজের বাড়িতে হামলার জেরে তাঁর বৃদ্ধ বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দিল্লি থেকে উড়ে আসেন ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও অন্য প্রতিনিধিরা। আশ্চর্যজনকভাবে, করিশুন্ডা গ্রামে তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘুরতে দেখা যায় সিপিএমের রাজ্যস্তরের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ ও ময়ূখ বিশ্বাসদের।
এমনকি নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে জয়েন্ট প্রেস কনফারেন্স— সর্বত্রই আশুতোষের পাশাপাশি অবস্থান করেছেন শতরূপরা। পাশাপাশি, এই খুনের ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ধিক্কার দিবস পালন করে এসএফআই।
তবে সিজেপি (CJP) এবং সিপিএম-এসএফআইয়ের এই মাখামাখি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অন্য হিসাবও তৈরি হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের একাংশের মতে, বাংলায় এসে সিপিএমের মতো কোনো নির্দিষ্ট দলীয় পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি করলে তরুণ প্রজন্মের (Gen Z) কাছে ভুল রাজনৈতিক বার্তা যেতে পারে, যা তাঁদের নিরপেক্ষ আন্দোলনে ব্যাঘাত ঘটাবে। এই প্রেক্ষাপটকে হাতিয়ার করেই কমিউনিস্টদের কাঠগড়ায় তুলে চরম সুর চড়ালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।






