কলকাতা

পুজোর পাস বিতর্কের পর এবার নজরুল মহোৎসব! ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে নবান্নে ফের দুর্নীতির অভিযোগ

অভিযোগ ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছেছে বলে সূত্রের খবর

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ থেকে ‘বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্প—একের পর এক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্তের মুখে প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ‘নজরুল মহোৎসব’। একই অনুষ্ঠানের খরচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা থেকে নেমে দেড় লক্ষ টাকারও কম হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি ব্যয়ের হিসাব নিয়ে। অভিযোগ ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছেছে বলে সূত্রের খবর। ২০২৫ সালে শিশির মঞ্চে নজরুল মহোৎসব আয়োজনের সময় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বে ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি খরচ দেখানো হয়েছিল ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৫৩ টাকা। অথচ ২০২৬ সালে একই শিশির মঞ্চে একই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের খরচ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা। এই বিপুল ব্যবধানই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই অনুষ্ঠানে এক বছরের মধ্যে খরচ এতটা কমল কীভাবে? ২০২৫ সালের ব্যয় আদৌ বাস্তবসম্মত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। শুধু ইন্দ্রনীল সেন নন, সেই সময় দফতরের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের তালিকায় শিশির মঞ্চের আধিকারিক তপন তরফদারের নামও রয়েছে। এর মধ্যেই অন্য দুই মামলাতেও তদন্তের মুখে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ও পাস বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডির দাবি, তাঁর মালিকানাধীন অক্টেভ রেকর্ডস থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। ইন্দ্রনীল সেই অর্থকে রয়্যালটি বলে ব্যাখ্যা করেছেন; ইডি ওই লেনদেনকে নিজে থেকে অপরাধমূলক বলে চিহ্নিত করেনি।

পাশাপাশি ‘বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্পে টেন্ডার বণ্টন নিয়েও ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মন্ত্রীত্বকালে ঘনিষ্ঠদের সংস্থাকে বিপুল অঙ্কের সরকারি কাজ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের দুর্নীতি তদন্ত কমিশন সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। নতুন অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “দুর্নীতি আর তৃণমূল সমার্থক।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “প্রতিভাবান ব্যক্তিরা কে কোথা থেকে রয়্যালটি পান জানি না।” ইন্দ্রনীল সেন জেনেশুনেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেছেন, “বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওঁর চিরদিনের। নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি রেখে সবাইকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই চালাকি বেশি দিন চলবে না। সব সামনে আসবে।” এটি অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য, তদন্তকারী সংস্থার কোনও সিদ্ধান্ত নয়।

Related Articles