কলকাতা

“নন্দীগ্রামে পায়ে ‘কোনো ফ্র্যাকচারই ছিল না মমতার!”- মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু

শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখিয়ে তাঁর দাবি, মমতার পায়ে সেই সময় কোনও ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের প্রমাণ ছিল না

Truth of Bengal: ২০২১-এর সেই ‘ভাঙা পা’ ফের ফিরে এল নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে! পাঁচ বছর আগে বিরুলিয়া বাজারে প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ঠিক কী হয়েছিল, এবার তা নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখিয়ে তাঁর দাবি, মমতার পায়ে সেই সময় কোনও ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের প্রমাণ ছিল না। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। ফলে বর্তমানে সেখানে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর আচরণবিধি উঠে গেলে এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হবে। আরও তথ্যও তখন প্রকাশ্যে আনা হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুভেন্দু এদিন বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের একটি রিপোর্ট সামনে এনে দাবি করেন, ২০২১ সালে মমতার পা ভাঙার যে দাবি সামনে এসেছিল, তার সঙ্গে ওই রিপোর্টের তথ্যের মিল নেই। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত নয়, এর সঙ্গে নন্দীগ্রামের মানুষের ভাবাবেগও জড়িয়ে রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১০ মার্চ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় গিয়ে বাম পা ও কোমরে আঘাত পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ভিড়ের মধ্যে কয়েকজনের ধাক্কায় গাড়ির দরজা তাঁর পায়ে এসে লাগে। পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ভিড়ের চাপে গাড়ির দরজায় তাঁর পা চেপে যায়।

সেই সময় সরকারি ভাবে তাঁর বাম গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর হাড় ও লিগামেন্টের আঘাত, পাশাপাশি শরীরের আরও কয়েকটি অংশে চোটের কথা জানানো হয়েছিল। ১২ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় তাঁর পায়ে কাস্ট ছিল। এরপর হুইলচেয়ারে বসেই বাকি নির্বাচনী প্রচার করেন মমতা। ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে’ স্লোগানও তখন রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম পরিচিত ছবি হয়ে উঠেছিল। পাঁচ বছর পর সেই ঘটনাকেই ফের সামনে এনে শুভেন্দুর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ের চোট নিয়ে যা বলেছিলেন, তার সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে।”

Related Articles