দেশ

মসজিদের মাইক খোলা নিয়ে চড়ছে পারদ! দিল্লিতে শাহী দরবারে বাংলার ৩ সংখ্যালঘু সাংসদ, কী বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

"শুধুমাত্র একটি ধর্মকে কেন টার্গেট?", শাহের মুখোমুখি ইউসুফ পাঠানরা, দিল্লিতে বিরাট পদক্ষেপ ৩ সাংসদের!

Truth of Bengal: শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা জারি হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্ট ও রাজ্য সরকারের বিধি মেনে একাধিক মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার এবং মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। কিন্তু এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এবার চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। প্রশ্ন উঠছে, শব্দদূষণ রোধে আইন যদি নির্দিষ্ট থাকে, তবে কেবল একটি বিশেষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন নিশানা করা হচ্ছে? এই ইস্যুতেই এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের তিন এনসিপিআই সাংসদ।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক বৈঠকে যোগ দেন বাংলার তিন সংখ্যালঘু সাংসদ, আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। বৈঠকে রাজ্যজুড়ে মসজিদ থেকে মাইক নামানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেন তাঁরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, আইন এবং শব্দদূষণের নির্দেশিকা সকলের জন্যই সমান হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়কে যেন পৃথকভাবে টার্গেট করা না হয়। যদি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই হয়, তবে তা সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য করা হোক।

বৈঠক শেষে সাংসদ আবু তাহের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, নিয়ম সবার জন্য এক হলে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। দুর্গাপুজো, কালীপুজো কিংবা অন্য যে কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও যদি একই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়, তবে মুসলিম সমাজ তা মেনে নেবে। কিন্তু বেছে বেছে শুধু মসজিদকে নিশানা করে মাইক খুলে ফেলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক। এটি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানছে বলে মনে করছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, সাংসদদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অমিত শাহ।

উল্লেখ্য, এর আগেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গা-জোয়ারির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এবার কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই মাইক বিতর্কের আঁচ পৌঁছাল দিল্লির দরবারে। আগামী দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আশ্বাসের পর এই পরিস্থিতিতে নতুন কী মোড় আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles