মহম্মদ সামির সামনে কি শেষ আন্তর্জাতিক পথ? নির্বাচকদের পরিকল্পনায় সেরকম ইঙ্গিতই স্পষ্ট
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে নির্বাচকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
Truth of Bengal: ভারতের জার্সিতে মহম্মদ সামির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে ভারতের স্মরণীয় অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই ডানহাতি পেসার। কিন্তু ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকেই তিনি কার্যত নির্বাচকদের ভাবনার বাইরে। চোট কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলে আর জায়গা ফিরে পাননি সামি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দলেও তাঁর নাম না থাকায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে নির্বাচকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দিনের ভারতীয় পেস আক্রমণ গড়ে তুলতে ১৫ জন তরুণ ফাস্ট বোলারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনটি ফরম্যাটের কথা মাথায় রেখেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই ১৫ জনের মধ্যে মহম্মদ সামির নাম নেই।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্বাচকদের মূল লক্ষ্য এখন পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র এবং ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞ পেসারদের ওপর নির্ভর না করে এখন থেকেই তরুণ বোলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ দিয়ে তৈরি করতে চাইছেন তাঁরা। যাতে আগামী বড় প্রতিযোগিতার আগে নতুন প্রজন্ম পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। জাতীয় দলে প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, প্রিন্স যাদব, গুরনুর ব্রার এবং মহসিন খান অত্যন্ত প্রতিভাবান বোলার। তাঁদের কাউকেই এখনই বাদ দেওয়া উচিত নয়। এখনও বিশ্বকাপের প্রায় ১৫ মাস বাকি রয়েছে, ফলে এই তিনজনই ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিতে পারেন।
তবে একইসঙ্গে শ্রীকান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মহম্মদ সামি একজন অসাধারণ বোলার। তাঁকে সব ফরম্যাটে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্তে তিনি বিস্মিত। তাঁর কথায়, দল পরিচালন সমিতি এমনভাবে সামিকে সরিয়ে দিয়েছে, যেন তিনি আর কোনও গুরুত্বই বহন করেন না। ফলে অভিজ্ঞ এই পেসারের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হয়েছে।






