রাজ্যের খবর

‘আড়াই হাজার লোকের মিটিং নিয়ে বড় বড় কথা!’, একুশের মঞ্চে অভিষেকের গর্জনের কড়া জবাব দিলেন শুভেন্দু

“ক্ষমতা থাকলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান!”, অভিষেকের ‘ফুটপাত’ হুঁশিয়ারির জবাবে বিধানসভায় চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর!

Truth of Bengal: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মঞ্চ থেকে দীর্ঘদিন পর চেনা মেজাজে ফেরা এবং বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করার গর্জন রাজনৈতিক সমীকরণকে তপ্ত করে তুলেছিল। কালীঘাট তৃণমূলের নম্বর টু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “ফুটপাতে থাকব, লড়াই করে বিজেপিকে হারাব। দেখি ওরা কী করতে পারে!” তবে অভিষেকের এই হুংকারকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে যুবরাজকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু বললেন, “আড়াই হাজার লোক নিয়ে আবার বড় বড় কথা! ক্ষমতা থাকলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান।”

মঙ্গলবার তিলোত্তমার বুকে শহিদ স্মরণে মোট তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল, যার দুটি তৃণমূলের এবং একটি কংগ্রেসের। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মমতার তৃণমূলের কাছে এই একুশের সভা ছিল নিজেদের অস্তিত্ব ও শক্তি প্রমাণের লড়াই। যদিও হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে মমতার মিটিংয়ে আড়াই হাজারের বেশি জমায়েত করা যাবে না। তবুও যে পরিমাণ ভিড় দেখা গিয়েছিল, তাতে মমতা-অভিষেকের মনোবল কিছুটা হলেও যে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা তাঁদের শরীরি ভাষাতেই স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। সভামঞ্চ থেকে পুরনো মেজাজে বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক জানান, যে কোনও মূল্যে বিজেপিকে হারাবেনই তাঁরা।

কিন্তু অভিষেকের সেই আগ্রাসী মনোভাবকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী খোঁচা মেরে মনে করিয়ে দেন যে আদালতের বেঁধে দেওয়া আড়াই হাজার লোক নিয়ে সভা করে এতটা উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। রাজনৈতিকভাবে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি অভিষেককে তাঁর নিজের গড়েই পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, এতদিন ধরে ডায়মন্ড হারবার তথা গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় দুর্গ। গত লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনীতির পেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। একসময় ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের মধ্যে ৩০টিই পকেটে পুরেছিল তৃণমূল। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯-এ। গড়ের এই ভগ্নদশার মাঝে শুভেন্দুর এই ‘ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে দেখানোর’ খোলা চ্যালেঞ্জে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল।

Related Articles