কলকাতা

এবার ট্রামে চেপেই মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথদেব, কলকাতায় অভিনব আয়োজন

শহরের রাস্তায় ট্রামে চড়েই ভ্রমণ করবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা

Truth of Bengal: আজ পুণ্য রথযাত্রা। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই উৎসবের আবহে পথে নামবে রথ। তবে কলকাতা এদিন সাক্ষী থাকতে চলেছে এক অভিনব আয়োজনের। শহরের রাস্তায় ট্রামে চড়েই ভ্রমণ করবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। কলকাতার ট্রামপ্রেমীদের উদ্যোগে দু’কামরার একটি ট্রামকে রথের আদলে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। ট্রামের ভিতরে থাকবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ। সঙ্গে থাকবে একটি ছোট রথও। জগন্নাথদেবের বিভিন্ন ছবি, ফুল ও রথের অনুষঙ্গে সাজানো হবে গোটা ট্রাম। ট্রামের ভিতরেই সম্পন্ন হবে বিশেষ পুজো। রথের আদলে সজ্জিত ট্রামটি সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ গড়িয়াহাট থেকে যাত্রা শুরু করবে। সেখান থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে সেটি পৌঁছবে শ্যামবাজার ট্রাম টার্মিনাসে। ‘ট্রামযাত্রা’ এবং ‘ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, রথযাত্রার উৎসবের সঙ্গে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রামকে যুক্ত করতেই এই পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে ট্রামকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণের বার্তাও দেওয়া হবে। গত তিন দশক ধরে কলকাতার ট্রাম পরিষেবা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের দাবিতে কাজ করে চলেছেন সংগঠনের সদস্যরা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম পরিষেবা নতুনভাবে চালুর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাকেও তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে কলকাতা থেকে ট্রাম পরিষেবা কার্যত তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তাঁরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ট্রামকে আধুনিক রূপে শহরের রাস্তায় ফেরানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন ট্রামপ্রেমীরা। তাঁদের আশা, বিদেশের বিভিন্ন শহরের মতো আধুনিক পরিকাঠামো ও নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে কলকাতাতেও ট্রাম পরিষেবা চালানো হবে। তাঁদের বক্তব্য, ট্রাম শুধুমাত্র একটি গণপরিবহণ ব্যবস্থা নয়—এটি কলকাতার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শহরবাসীর আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ট্রামকে কোনওভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।সংগঠনের সদস্য মহাদেব শী বলেন, “শহরে ট্রাম চালু রাখার দাবিতে আমাদের দীর্ঘদিনের লড়াই। নতুন সরকার আমাদের দাবি মেনে ট্রামকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে আমরা অত্যন্ত খুশি।”