কলকাতা

“ইচ্ছে করে আড়াল করা হয়েছে ইতিহাস!”, শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

ইতিহাস চুরির পর্দাফাঁস! শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু নিয়ে বড় বোমা ফাটালেন শুভেন্দু

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের মেগা রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে সম্পূর্ণ নতুন মেরুকরণে। নতুন বিজেপি সরকারের হাত ধরে বাংলায় এখন ক্রমশ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন ‘ভারত কেশরী’ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তাঁর জন্মদিন অর্থাৎ ৬ জুলাইকে রাজ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে শুভেন্দু সরকার, নেওয়া হয়েছে বিশাল মূর্তি গড়ার মেগা পরিকল্পনাও। এই আবহেই মঙ্গলবার, ২৩ জুন তাঁর মৃত্যুদিবসে এক চরম ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শ্যামাপ্রসাদের রহস্যময় প্রয়াণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর মৃত্যু নিয়ে এক গভীর রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনাকে এতদিন আড়ালে রাখা হয়েছিল। একটা মহল ইচ্ছে করে এই বীর সন্তানের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশাল মূর্তির পাদদেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য ঢল নামে নতুন রাজ্য মন্ত্রিসভার হেভিওয়েটদের। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে সেখানে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন-সহ কৌশিক চৌধুরী ও ড: হরেকৃষ্ণ বেরারা।

মূর্তিতে মাল্যদান সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে সরাসরি ‘জামাত’-এর সঙ্গে তুলনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু সগর্বে বলেন, ‘‘আগের তোষণকারী সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালিকে মনে রাখতে হবে, তিনি না থাকলে আজ হিন্দু বাঙালি নিজের মাতৃভূমি পেত না, পুরো পশ্চিমবঙ্গটাই পাকিস্তানে চলে যেত। উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এবার থেকে ওঁর রাষ্ট্রবাদী চেতনা ও আদর্শ নিয়েই চলবে এই রাজ্য।”

ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আরও এক বড় ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আজ ২৩ জুন থেকে আগামী ৬ জুলাই (শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন) পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাড়ম্বরে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালন করা হবে।

কেওড়াতলার এই রাজকীয় অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির একটি মেগা রক্তদান শিবিরে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে দেখার জন্য কার্যত সাধারণ জনতার ভিড় ভেঙে পড়ে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে যেভাবে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে ছাব্বিশের বদলের বাংলায় আগামী দিনে বাম-তৃণমূলের চেনা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছে এই গেরুয়া সরকার।

Related Articles