লখনউ কোচিং সেন্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সিট গঠন, গ্রেফতার ৪
সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই কোচিং সেন্টার-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল বলে অভিযোগ।
Truth of Bengal: লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের অন্যতম মালিক বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্ল। ইতিমধ্যেই ঘটনার নেপথ্যে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
সোমবার লখনউয়ের উষা মেহতা মার্গে অবস্থিত একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন লাগে। দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ওই তিনতলা ভবনের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
লখনউ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এলডিএ) এবং পুরসভার নথি অনুযায়ী, ভবনটি আদতে একটি আবাসিক ভবন হিসেবে অনুমোদিত ছিল। কিন্তু সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই কোচিং সেন্টার-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভবনটির মালিক তিন ভাই— বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্ল, সুরেন্দ্র শুক্ল এবং ধীরেন্দ্র শুক্ল। ২০১৪ সালে ভবনটির চরিত্র পরিবর্তন করে সেটিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা শুরু হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
সরকারি নথি থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ভবনটিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নোটিসও জারি করা হয়েছিল। যদিও মাত্র দু’মাসের মধ্যেই সেই নোটিস প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মালিকপক্ষ দাবি করেছিল, অনুমোদিত নকশা মেনেই নির্মাণকাজ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য কোনও বিকল্প পথ ছিল না। এমনকি ছাদে যাওয়ার পথও বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ। ফলে আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ আটকে পড়েন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভবনের এসি ডাক্ট থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।






