মেয়ের মৃত্যুর ১ বছর পরও মেলেনি বিচার! মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দরবারে তামান্নার মা
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন
Truth of Bengal: কালীগঞ্জে বোমাবাজিতে মৃত ছাত্রী তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। মেয়ের মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তামান্নার মায়ের পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আনিস খানের বাবাও। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং একমাত্র সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। সাক্ষাতের পর সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আগের সরকারের আমলে তাঁর মেয়ের খুনের তদন্ত এগোয়নি। ঘটনায় যারা যুক্ত, তাদের কড়া শাস্তি এবং দ্রুত বিচারের দাবি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাবিনা ইয়াসমিনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে সবরকমভাবে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি এবং মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিই তিনি এদিন তুলে ধরেছেন। এদিকে এই ঘটনায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে দুষ্কৃতীদের হাতে তামান্না, আনিস-সহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। বহু কর্মীকে খুন হতে হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বা তৎকালীন সরকার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। দোষীদের শাস্তিও হয়নি। তাই সমস্ত ঘটনায় বিচার এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা হয়েছে বলে জানান বাম নেত্রী। মীনাক্ষীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সাক্ষাতের পর তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন এবং আনিস খানের বাবাকে নিয়ে ভবানীভবনে যান সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এবং সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, এদিনই তামান্না হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নদিয়া জেলা পুলিশ সুপারের দফতর অভিযান করে বামপন্থী ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনগুলি। সেই কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বোমাবাজিতে মৃত্যু হয় ছোট্ট তামান্নার। অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের জয় কার্যত নিশ্চিত হতেই কালীগঞ্জের মোলান্দি এলাকায় বিজয় মিছিল বের হয়। সেই মিছিল চলাকালীন বিরোধী সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়। সেই বোমার আঘাতেই মায়ের চোখের সামনে প্রাণ হারায় তামান্না। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ মূল অভিযুক্ত-সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে অভিযোগপত্রে নাম থাকা একাধিক অভিযুক্ত এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে তামান্নার পরিবারের।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন রাজ্যপালের ভাষণের জবাব দিতে গিয়ে বিধানসভায় তামান্নার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তামান্নার পরিবারও বিচার পাবে। রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজ, কামদুনি ও ধূপগুড়ির মতো ঘটনায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।






