‘কে অভিষেক? যাকে লোকে চোর পিটুনি দিয়েছিল!’ বিস্ফোরক ঋতব্রত
তীব্র কটাক্ষের সুরে ঋতব্রত বলেন, “কে অভিষেক? যাকে লোকে চোর পিটুনি দিয়েছিল?”
Truth of Bengal: সোমবার বিকেলে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে ‘আসল তৃণমূল’। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায়, কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিক বৈঠকে সেই জল্পনা কার্যত উড়িয়ে দিলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এদিনের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। অভিষেক প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই তীব্র কটাক্ষের সুরে ঋতব্রত বলেন, “কে অভিষেক? যাকে লোকে চোর পিটুনি দিয়েছিল?” এরপর তিনি আরও জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত বা আলোচনা বৈঠকে হয়নি। তাঁর কথায়, “না, চাটার্ড অভিষেককে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।” এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার খবর সঠিক নয়।
পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফসল হিসেবে তৈরি দলটি কার্যত ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে দাবি করছে ঋতব্রত-পন্থী শিবির। একে একে ৬৪ জনের বেশি বিধায়ক মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে পরিষদীয় দলের রাশও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। শুধু বিধানসভা নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের বড় ভাঙনের দাবি করা হচ্ছে। তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনডিএকে সমর্থন করার লক্ষ্যে এনসিপিআই নামে একটি নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে দাবি ঋতব্রত শিবিরের।
অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় কলকাতা পুরসভাতেও মমতা শিবিরের প্রভাব কমেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এই আবহেই সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করে ‘আসল তৃণমূল’। পরিষদীয় দলের ধাঁচে এবার কাউন্সিলরদেরও নিজেদের শিবিরে টানার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই বৈঠকেই তৃণমূলের একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি ঘোষণার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার জল্পনা শুরু হয়। তবে সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, এদিন অভিষেককে নিয়ে কোনও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদিও নতুন কমিটি অনুযায়ী এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের কোনও পদ নেই। ঋতব্রত আরও জানান, শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়েছিল। তিন বছর পর সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। দলের সাংবিধানিক সংকট কাটাতেই নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।






