ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সোজা দুবাই! বীরভূমের পাথর কেলেঙ্কারি নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু
“চোরদের কাউকে বাঁচতে দেবেন না!”, বিধানসভায় শুভেন্দুর দুর্নীতির খতিয়ান শুনেই পাশে দাঁড়ালেন কুণাল!
Truth of Bengal: মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে যেন এক মহা-বিস্ফোরণ ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একের পর এক কঙ্কাল এবার বিধানসভার কক্ষেই টেনে বের করলেন তিনি। বাণিজ্য সম্মেলনের নামে ৩২৪ কোটি টাকা একটি নির্দিষ্ট বণিকসভাকে পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠের যে খতিয়ান মুখ্যমন্ত্রী এদিন পেশ করলেন, তা শুনে রীতিমতো থমথমে হয়ে যায় বিরোধী বেঞ্চ। তবে শুভেন্দুর মঙ্গলবারের বক্তৃতার সবচেয়ে বড় ‘পারমাণবিক বোমা’ ছিল তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ এবং বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি নিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিয়ে দাবি করেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে প্রতি বছর প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হত। আর সেই লুঠের টাকা ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ হয়ে সরাসরি চলে যেত দুবাইয়ের নিরাপদ ডেরায়। শুভেন্দুর কথায়, “যা এখানে বলছি তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আপনারা আন্দাজও করতে পারবেন না কীরকম বেপরোয়া ভাবে সাধারণ মানুষের টাকা চুরি ও লুঠ হয়েছে।” নিজের দাবির সপক্ষে তথ্য দিয়ে তিনি জানান, আগের জমানায় যেখানে বছরে মাত্র ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রী যখন এই যুবরাজের দুবাই কানেকশনের কথা বলছিলেন, তখন বিরোধী আসনে বসা কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমদের রীতিমতো গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।
আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেও মেগা জালিয়াতি!
পাথর কেলেঙ্কারির পাশাপাশি ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছেন। এর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বড় প্রমাণ হিসেবে ‘লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা পাওয়া গেছে! ভুয়ো নামের আড়ালে বছরে ৫৪০০ কোটি টাকা গরিবের পকেট কেটে লুঠ করা হয়েছে, যার সবটাই জানত নবান্নের চোদ্দ তলা।
কড়া আইনের হুঁশিয়ারি, পাশে দাঁড়ালেন কুণাল!
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে চুরির টাকা আদায় করার জন্য সরকার অত্যন্ত কঠোর আইন আনছে। তবে অধিবেশনের সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে যখন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোদ শুভেন্দুর সুরেই সুর মেলান। কুণাল ঘোষ চেঁচিয়ে বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব যাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিন। আর যারা নিজেদের চুরি থেকে বাঁচতে এখন বিদ্রোহী (নোভোটেল শিবির) হয়ে উঠেছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করবেন না।” কুণালের এই মন্তব্য যে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও চওড়া করল, তা বলাই বাহুল্য।






