উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ চরমে, ধস-বন্যায় আটকে পর্যটক; চালু জরুরি হেল্পলাইন
বেশ কিছু জায়গায় পর্যটকদের আটকে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে
Truth of Bengal: প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিংয়ের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। সিকিমের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। পাহাড়ের সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে এবং ধস পরিষ্কারের কাজও দ্রুত শুরু করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের জন্য দুটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে রাজ্য। নম্বরগুলি হল ১৮০০-২১২১-৬৫৫ এবং ০৩৫৩-২৫১৩৯৮৬। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় পর্যটকদের আটকে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
ভারী বৃষ্টির জেরে বালাসন, মহানন্দা এবং তিস্তার জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। বালাসন নদীর জলের তোড়ে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু ভেঙে গিয়েছে। এর ফলে যাতায়াতে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস নেমেছে। দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির সংযোগকারী রাস্তা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে কালিম্পং ও সিকিমগামী যান চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পর্যটকদের যাতে কোনও ক্ষতি বা সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিপজ্জনক এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করা হবে। গত অক্টোবরের দুর্যোগে উত্তরবঙ্গের বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখনও দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়েছিল। বহু মানুষের প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছিল। তার মধ্যেই ফের ভারী বৃষ্টি ও ধসে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে পাহাড়ে।
বৃষ্টির জেরে কার্শিয়াং-সহ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।





