“হয় আত্মসমর্পণ করুন, নয় পদত্যাগ!”, উত্তরবঙ্গে দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
“চুরি করে থাকলে সোজা থানায় যান, পালিয়ে বাঁচবেন না!” উত্তরকন্যা থেকে তৃণমূল নেতাদের চরম ডেডলাইন শুভেন্দুর
Truth of Bengal: শুক্রবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যায় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদায়ী তৃণমূল সরকারের পতনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন এবং অনেকে ‘ডিম থেরাপি’র (কড়া পুলিশি হেফাজত) ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। বহু পুরসভা, পঞ্চায়েত ও জিটিএ (GTA)-র প্রধান ও সদস্যরা পলাতক থাকায় থমকে গিয়েছে আমজনতার সরকারি পরিষেবা। এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “পুরসভা, কর্পোরেশন, পঞ্চায়েত বা জিটিএ-তে যাঁরা এতদিন চুরি-চামারি করেছেন, তাঁরা পালিয়ে বেড়াবেন না। সোজা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। আর যদি ভয়ে দফতরে যেতে না পারেন, তবে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন!” উন্নয়নের কাজে কোনওরকম ঢিলেমি বা দুর্নীতি তিনি বরদাস্ত করবেন না এবং সমস্ত কাজের তদারকি নিজেই করবেন বলে স্পষ্ট জানান শুভেন্দু।
উত্তরবঙ্গের বন্যা রুখতে মাস্টারস্ট্রোক! নামছে ৪০০ বিশেষ পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স
উত্তরবঙ্গের বর্ষাকালীন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এই বৈঠকে বেশ কিছু যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোচবিহারের বন্যা, বাংলাদেশ থেকে আসা জলে হিলির প্লাবন এবং শিলিগুড়ি ও মেখলিগঞ্জের জল জমার সমস্যা রুখতে এখন থেকেই সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষিত কর্মীদের কাজে নামানো হচ্ছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ৪০০ জন স্পেশাল পুলিশ কর্মী নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স বা ‘বিশেষ দল’ তৈরি করা হচ্ছে, যারা বন্যা বা যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এনডিআরএফ (NDRF) ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সরাসরি সাহায্য করবে।
সচল হচ্ছে উত্তরকন্যা, কলকাতার ওপর নির্ভরতা কমানোর বড় চাল
এদিনের বৈঠকের অন্যতম বড় চমক ছিল উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গের মানুষকে ছোটখাটো কাজের জন্য আর কলকাতায় ছুটে যেতে হবে না। উত্তরকন্যা ভবনকে আরও শক্তিশালী, সচল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ খুব দ্রুত নেওয়া হচ্ছে। চলতি প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পাহাড় ও সমতলের মানুষের দুয়ারে পরিষেবা পৌঁছে দিতে এখন থেকে উত্তরকন্যাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। মুখ্যমন্ত্রীর এই অল-আউট অ্যাকশন প্ল্যানে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে।





