কলকাতা

সই জালের পর এবার ‘ডিজে’ মামলা, নোটিস নিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি!

সই জালের পর এবার ‘ডিজে’ মন্তব্য মামলা! সাঁড়াশি চাপে অভিষেক, নোটিস হাতে দরজায় দাঁড়িয়ে সিআইডি

Truth of Bengal: সই জাল-কাণ্ডে ভবানী ভবনে ম্যারাথন জেরা এবং আগামী রবিবার ফের হাজিরার নির্দেশের রেশ কাটতে না কাটতেই, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ওপর চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল রাজ্য পুলিশ। এবার আর সিআইডি (CID) দফতরে ডেকে পাঠানো নয়, শুক্রবার বিকেল হতেই সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসভবনে হানা দিলেন গোয়েন্দারা। সই জাল মামলার পাশাপাশি এবার অত্যন্ত বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্য মামলায় তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে ঘিরে ধরেছে সিআইডি। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল আচমকাই অভিষেকের বাড়ির দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ে। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা কালীঘাট চত্বর ও তৃণমূল শিবিরের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

বাড়িতে নেই ‘সেনাপতি’, নোটিস হাতে অপেক্ষা

সিআইডি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিতর্কিত ডিজে মন্তব্য মামলার তদন্তের স্বার্থেই এদিন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন আধিকারিকরা। তাঁদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি সরকারি আইনি নোটিসও রয়েছে, যা সরাসরি অভিষেকের হাতে তুলে দেওয়াই ছিল গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য। তবে সিআইডি টিম যখন পটুয়াপাড়ার বাসভবনে পৌঁছয়, দুর্ভাগ্যবশত বা কৌশলগত কারণে তখন বাড়ির অন্দরে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা।

Abhishek Banerjee
চিত্র- সংগৃহীত

তদন্তকারীরা বাড়ির লোক ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেও, নিয়ম অনুযায়ী মূল অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে এই নোটিস অন্য কারও হাতে হস্তান্তর করা যায়নি। আর ঠিক এই কারণেই নোটিস ঝুলিয়ে ফিরে না গিয়ে, খোদ সিআইডি-র দুঁদে আধিকারিকরা এখন অভিষেকের বাড়ির মূল ফটকের সামনেই ঠায় অপেক্ষা করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি ফিরলেই তাঁর হাতে এই নোটিসটি তুলে দেওয়া হবে বলে সিআইডি সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।

সাঁড়াশি চাপে জোড়াফুল শিবির

ছাব্বিশের রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যে চরম নাটক চলছে, তা এক প্রকার নজিরবিহীন। গতকালই ভবানী ভবনে সিআইডি-র এডিজি সুপ্রতিম সরকারের নেতৃত্বাধীন ১০ জনের মেগা টিমের মুখোমুখি হয়ে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার মুখে পড়েছিলেন তিনি, যেখানে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তরেই তিনি “জানি না” বলে মেজাজ হারিয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ফের অন্য একটি মামলায় তাঁর বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি-র পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একদিকে ১৯ জন দলীয় সাংসদের গোপন বিদ্রোহ ও দলবদল এবং অন্যদিকে একের পর এক আইনি মামলায় এভাবে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার সাঁড়াশি চাপ, সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তথা গোটা তৃণমূল কংগ্রেস এই মুহূর্তে এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। শেষ পর্যন্ত অভিষেক আজ কখন বাড়ি ফেরেন এবং সিআইডি-র এই নতুন নোটিসের জবাবে তাঁর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।

Related Articles