কলকাতা

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ গৌতম দাস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ দেবত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধান ডায়েটিশিয়ান বিজয়া আগরওয়াল, ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান সুনন্দা ঘোষ।

Truth of Bengal: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের উপর জোর দিলেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার বিশেষজ্ঞরা। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের প্রচার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ফ্রম বার্ডেন টু সলিউশন : সেফ ফুড এভরি হোয়্যার’।এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং এমন কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, যা খাদ্যবাহিত রোগের বাড়তে থাকা সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ গৌতম দাস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ দেবত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধান ডায়েটিশিয়ান বিজয়া আগরওয়াল, ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান সুনন্দা ঘোষ। তাঁরা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে মূল্যবান তথ্য তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি ১৫ জনেরও বেশি প্রবীণ নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর খেলা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খাদ্যবাহিত রোগ নিয়ে বিশ্ব ও দেশের উদ্বেগ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বের প্রতি নয় জন মানুষের মধ্যে প্রায় একজন দূষিত, অনিরাপদ বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১.৫২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী, প্রিয়ন বা রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা দূষিত খাবারের কারণে ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত ২০০-রও বেশি ধরনের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এসব রোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। খাদ্যবাহিত রোগ শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটন ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া খাদ্য নিরাপত্তা, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে ডাঃ গৌতম দাস বলেন,খাদ্য নিরাপত্তা এবং হজমতন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রতি বছর দূষিত খাবার ও পানীয় জলের কারণে খাদ্যবাহিত রোগ, পেটের সংক্রমণ এবং নানা ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক জলশূন্যতা, লিভারের সমস্যা, প্রাণঘাতী সংক্রমণ এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই খাবারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়া এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।অনিরাপদ খাবার থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে ডাঃ দেবত্তম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,অনিরাপদ খাবার এখনও বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সমস্যা। আমাদের কাছে আসা বহু পেটের সমস্যার মূল কারণ দূষিত, বাসি বা ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা খাবার। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরতা বাড়ার ফলে স্থূলতা, ডায়রিয়া, ফ্যাটি লিভার এবং অন্যান্য হজমের সমস্যাও বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া উচিত এবং এটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠা প্রয়োজন। ফল ও সবজি ভালোভাবে ধোয়া, ফাস্ট ফুড কম খাওয়া, সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়া এবং খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার মতো সহজ অভ্যাস খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।পুষ্টিগুণের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধান ডায়েটিশিয়ান বিজয়া আগরওয়াল বলেন,বিশেষ করে প্যাকেটজাত বা তৈরি খাবার খাওয়ার সময় খাদ্যের গুণমান এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের মেয়াদ পরীক্ষা করা, সংরক্ষিত খাবার ভালোভাবে গরম করে খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর রাস্তার খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড কম খাওয়ার অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্য নয়, সুস্থ পরিবার ও সমাজ গড়ে তোলার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান সুনন্দা ঘোষ বলেন,খাদ্য নিরাপত্তা শুধু খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিরাপদ উপায়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু, গর্ভবতী মহিলা, প্রবীণ ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিনের রোগে ভুগছেন এমন মানুষদের ক্ষেত্রে খাবারের পরিকল্পনা এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সদ্য রান্না করা খাবার, পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য এবং রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা দূষণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।