কলকাতায় ফিরলেই গ্রেফতারির আশঙ্কা? অভিষেকের গতিবিধি জানতে বিমানবন্দরে সিআইডি
যদিও এই মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
Truth of Bengal: সই জাল কাণ্ডে পরপর তিনবার সিআইডির হাজিরা এড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়বার তিনি দিল্লিতে রয়েছেন বলে জানিয়ে সিআইডির কাছে সময় চান। এরপরই তাঁর গতিবিধি জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিআইডি। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কলকাতায় ফিরলেই সিআইডির মুখোমুখি হতে পারেন অভিষেক। যদিও এই মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বুধবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আপাতত অভিষেকের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের উপর।
সই জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডির নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। প্রথমবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে, দ্বিতীয়বার কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে এবং তৃতীয়বার দিল্লিতে থাকার পাশাপাশি হাই কোর্টে মামলা দায়েরের কথা উল্লেখ করে তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার রেজোলিউশনের কপি খুঁজতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এখন অভিষেকের কলকাতায় ফেরার গতিবিধির উপর নজর রাখছে বলেই সূত্রের দাবি। সেই কারণেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে খবর।
অন্যদিকে, সিআইডির সম্ভাব্য পদক্ষেপের আগে হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সেই মামলার শুনানি হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আদালতের নির্দেশের উপর ভিত্তি করেই কলকাতায় ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। তবে আদালত থেকে স্বস্তি না মিললে অভিষেককে বড় আইনি অস্বস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই সই জাল কাণ্ডের সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান বলেই তৃণমূল সূত্রে দাবি। তবে বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা তখন জমা দেওয়া হয়নি।
এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম অনুযায়ী বিধায়কদের সই নেওয়া হয়। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম-সহ প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। সেই প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয়। সেদিন উপস্থিত বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয় এবং অনুপস্থিতদের তালিকাও মিলিয়ে দেখা হয়।
পরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে ৭০ জন বিধায়কের সই-সহ একটি কাগজ বিধানসভায় জমা দেয় তৃণমূল। দলের তরফে সেটিকেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবনাপত্র বলে জানানো হয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় সই মিলিয়ে দেখার সময়। অভিযোগ, দুই জায়গায় একাধিক বিধায়কের সইয়ের মধ্যে গরমিল ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় জল গড়ায় থানায় এবং দায়ের হয় এফআইআর।
এরপর তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। তদন্তে নেমে একাধিক বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করা হয়। দলের বিদ্রোহী শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগের তির তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে সিআইডি। এখন আদালতের শুনানি এবং সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।






