রাজ্যের খবর

জাহাঙ্গির গ্রেফতার হতেই ফলতায় ভাঙচুর, পার্টি অফিস থেকে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের দাবি

জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা

Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে দাপুটে নেতাদের একের পর এক পতনের তালিকায় এবার যুক্ত হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও এক ‘হেভিওয়েট’ নাম। বেঙ্গল এসটিএফ (STF) এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে আজ, সোমবার সকালে বাংলা-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলো ফলতার একদা বেতাজ বাদশা তথা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে। নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা এই নেতার গ্রেপ্তারের খবর ফলতায় পৌঁছানো মাত্রই চত্বর জুড়ে আছড়ে পড়ে নজিরবিহীন গণরোষ। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি এলাকায় দেদার মিষ্টি বিলি শুরু করেন।জাহাঙ্গির খান পুলিশের জালে ধরা পড়েছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শ্রীরামপুরে অবস্থিত তাঁর দলীয় কার্যালয় বা পার্টি অফিসের সামনে লাঠি-সোটা নিয়ে জমা হতে শুরু করেন কয়েকশো উত্তেজিত বাসিন্দা। মুহূর্তের মধ্যে অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে চলে ব্যাপক তাণ্ডব। ভেতরের টেবিল, চেয়ার, আলমারি এবং টেলিভিশন-সহ সমস্ত আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভাঙচুর চলাকালীনই পার্টি অফিসের একটি গোপন ঘরে থরে থরে সাজানো সরকারি ত্রাণের সামগ্রী দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা কয়েকশো ত্রিপল এবং অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী জবরদখল করে নিজের অফিসে মজুত করে রেখেছিলেন জাহাঙ্গির। এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতার একাংশকে মুখ ঢেকে সেই সমস্ত সরকারি ত্রিপল ও ত্রাণ সামগ্রী লুঠ করে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। শুধু পার্টি অফিসই নয়, জাহাঙ্গিরের একটি নির্মীয়মাণ বিলাসবহুল বাড়িতেও চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের (Re-polling) নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের কড়া নজরদারির জেরে পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে অদ্ভুতভাবে ভোটের লড়াই থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকা থেকে রাতারাতি বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন ফলতার এই ‘ত্রাস’। পুলিশ ও এসটিএফের হাত থেকে বাঁচতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি সোজা চলে যান বাংলা-নেপাল সীমান্ত এলাকায়। পুনর্নির্বাচনের দিন তাঁর স্ত্রীকে ভোটকেন্দ্রে দেখা গেলেও, স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির আর এলাকায় ফেরেননি। গ্রেপ্তারি এড়াতে জাহাঙ্গির নিজের সমস্ত পুরোনো মোবাইল নম্বর ও সিম কার্ড বদলে ফেলেছিলেন। এমনকি পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের সন্তানদের নেপালের একটি নামী স্কুলে ভর্তি করার জন্য সেখানে খোঁজখবরও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ, সপরিবারে সীমান্ত পার করে নেপালে স্থায়ীভাবে ডেরা বাঁধার সমস্ত ছক কষে ফেলেছিলেন এই নেতা।

Related Articles