নাম বদলাল মমতার ‘মা ক্যান্টিন’-এর! এবার ‘মা আহার’ প্রকল্পে ৫ টাকায় মিলবে মাছ-ভাত
৫ টাকায় সপ্তাহে ২ দিন মাছ আর ২ দিন ডিম! নতুন মেনু কার্ড প্রকাশ করে ধামাকা দিল রাজ্য সরকার
Truth of Bengal: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক সামাজিক প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে নতুন বিজেপি সরকার আগেই জানিয়েছিল, আমজনতার সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বন্ধ করা হবে না; বরং সেগুলির পরিধি আরও বাড়ানো হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেই এবার মমতা জমানার জনপ্রিয় ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণ নবরূপে নিয়ে এল নতুন সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, এবার থেকে ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’। শুধু নাম বদলই নয়, গরিব ও দুঃস্থ মানুষদের জন্য এই প্রকল্পের আকার এবং খাবারের মেনুতেও আনা হচ্ছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।
সপ্তাহে ২ দিন মাছ, ২ দিন ডিম!
২০২১ সালে তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া মা ক্যান্টিনে এত দিন ৫ টাকার বিনিময়ে ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হত। ক’দিন আগেই রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, এই কেন্দ্রগুলিতে গরিব মানুষদের মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে। সেই কথামতোই এবার ‘মা আহার’-এর সাত দিনের নতুন ও পুষ্টিকর মেনু কার্ড চূড়ান্ত করে দিল শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ‘মা আহার’ কেন্দ্রগুলিতে সপ্তাহে দু’দিন করে দেওয়া হবে মাছ-ভাত এবং সপ্তাহে দু’দিন করে দেওয়া হবে ডিম-ভাত। আর সপ্তাহের বাকি তিন দিন উপভোক্তাদের পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ নিরামিষ আহার। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবারে এমন রাজকীয় মেনু নিশ্চিতভাবেই রাজ্যের শ্রমজীবী ও দুঃস্থ মানুষদের মুখে বড় হাসি ফোটাবে।
রাজ্যে খুলছে আরও ৫০০ ‘মা আহার’ কেন্দ্র
অগ্নিমিত্রা পাল এদিন সাফ জানিয়ে দেন, এই প্রকল্পকে শুধু টিকিয়ে রাখাই নয়, একে আরও বৃহত্তর আকারে রাজ্যের কোণায় কোণায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার। সেই উদ্দেশ্যে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আরও ৫০০টি নতুন ‘মা আহার’ কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত মঞ্জুর করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষ প্রতিদিন মাত্র ৫ টাকায় পেটপুরে পুষ্টিকর দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর মা ক্যান্টিনের এই রূপান্তর আসলে রাজ্যের গরিব ও নিম্নবিত্ত ভোটারদের মন জয় করার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের এক অত্যন্ত সুচতুর ও সদর্থক পদক্ষেপ। প্রকল্প বন্ধের অপপ্রচার উড়িয়ে দিয়ে যেভাবে ‘মা আহার’-এর মাধ্যমে খাবারের মান ও কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হলো, তা ছাব্বিশের বাংলায় এক নতুন নজির সৃষ্টি করল।


