‘আমরাও ভারতের কিছু ভূখণ্ড দখল করেছি’, বিস্ফোরক মন্তব্য নেপালের প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই মাস পর প্রথমবার নেপালের সংসদে ভাষণ দেন বলেন্দ্র শাহ।
Truth of Bengal: ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ (বালে শাহ) রবিবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেছেন, শুধু ভারতই নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই জটিল সীমান্ত সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই খুঁজে বের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই মাস পর প্রথমবার নেপালের সংসদে ভাষণ দেন বলেন্দ্র শাহ। সেখানে এক সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি সীমান্ত সংক্রান্ত এই বিতর্কিত তথ্য সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তাঁর মতে, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে, যার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিশেষভাবে কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলের প্রসঙ্গ তোলেন। বহু বছর ধরেই এই তিনটি এলাকা নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ চলছে। বলেন্দ্র শাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নেপাল সরকার ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে এবং ভারত তার জবাবও দিয়েছে। এখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভারত ও নেপাল যৌথভাবে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করতে পারে। ওই দলে জরিপ বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আলোচনার টেবিলেই সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত জটিলতার সমাধান খোঁজা হবে বলে জানান তিনি।
বলেন্দ্র শাহ আরও দাবি করেন, এই সীমান্ত সমস্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি শুধু ভারত ও চিনের সঙ্গেই নয়, ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান বিরোধের শিকড় ঔপনিবেশিক আমলে নিহিত। ব্রিটিশ শাসনামলে সীমান্ত নির্ধারণের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নথিপত্রের কারণেই আজকের এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণেই ব্রিটেনেরও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখানো উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভারত-নেপাল সীমান্তের কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। ২০২০ সালের জুন মাসে নেপালের সংসদ একটি নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র অনুমোদন করে, যেখানে ওই তিনটি অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সেসময় জানায়, নেপালের দাবি ‘ভিত্তিহীন’ এবং ভারত কোনওভাবেই তা মেনে নেয় না।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সীমান্ত বিরোধ ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উভয় দেশের পক্ষ থেকেই আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।






