রাজ্যের খবর

শুভেন্দুর মন্তব্যের পরেই বহরমপুরে তোলপাড়! পুলিশের জালে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাওয়া সেই রাকিবুল শেখ

নবান্নে নাম নিতেই বহরমপুরে পুলিশের বিরাট অ্যাকশন! শুভেন্দুর ‘টার্গেট’ সেই রাকিবুল শেখ অবশেষে আটক

Truth of Bengal: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি প্রকল্পগুলির ঝাড়াই-বাছাই ও দুর্নীতি দমনে নজিরবিহীন গতি এসেছে। বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। সেখানে তিনি অনুপ্রবেশকারী ও পুরুষদের অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে টাকা যাওয়ার জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে বহরমপুরের ‘রাকিবুল’-এর নাম উল্লেখ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া সুরে বলেছিলেন, “শুধু রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই পাবেন এই টাকা, কোনও রাকিবুল নন।” এই মন্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বুধবার রাতেই মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাকিবুল শেখকে আটক করেছে।

কে এই রাকিবুল শেখ? কীভাবে পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রাকিবুল শেখ আদতে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকার একজন ছোটখাটো হোটেল ব্যবসায়ী। তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিগত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে ঢুকেছে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা। পুলিশের হেফাজতে যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের দোষ কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন রাকিবুল।

তিনি বলেন, “আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কীভাবে এই টাকা ঢুকতে শুরু করেছিল, তা আমি প্রথমে জানতাম না। আমি কোনওদিন এই প্রকল্পের জন্য আবেদনও করিনি, কোনও রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত নই। তবে যখন টাকাটা ঢুকছিল, তখন আমার সংসারে তীব্র আর্থিক অনটন চলায় আমি ব্যাংক থেকে সেই টাকা তুলে খরচ করে ফেলি।” পরে তিনি জানতে পারেন যে ওটা আসলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা।

প্রধানের মৌন সম্মতি ও ট্রাইব্যুনালের মামলা

রাকিবুলের দাবি, পুরুষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার এই অদ্ভুত বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় স্তরে কয়েকজনকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু চারপাশ থেকে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়, “টাকা যখন ঢুকছে, তখন চুপচাপ তুলে নাও।” এমনকি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও এই বিশাল অনিয়ম নিয়ে কোনওদিন কোনও পদক্ষেপ করেননি বা তাঁকে সতর্ক করেননি বলে দাবি রাকিবুলের। নিজের এই কাজ যে আইনত দণ্ডনীয় ও অন্যায়, তা অবশ্য মেনে নিয়েছেন এই ব্যবসায়ী।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত রাকিবুল শেখ এবং তাঁর স্ত্রী সুলতানা পারভিনের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে। বর্তমানে এই নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনও অভারতীয় বা পুরুষ এই অন্নপূর্ণা যোজনায় ঠাঁই পাবেন না। আর এই ঘোষণার পরই রাকিবুলের আটক হওয়া স্পষ্ট করে দিল যে, ছাব্বিশের বাংলায় ভুয়ো উপভোক্তাদের দিন এবার ফুরিয়ে এসেছে। কীভাবে দিনের পর দিন সরকারি পোর্টালকে ফাঁকি দিয়ে একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে টাকা গেল, তা জানতে রাকিবুলকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছে বহরমপুর থানার পুলিশ।

Related Articles