রাজ্যের খবর

নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

Truth of Bengal: বারুইপুরের তরুণ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু স্রেফ কোনো সাধারণ গণপিটুনির ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মাত্র ৩৫ বছর বয়সি এই অবিবাহিত যুবকের হাত-পা বেঁধে যেভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, তার পেছনে অতিবাম, র‍্যাডিকাল ও মৌলবাদী শক্তির গভীর ষড়যন্ত্র এবং উসকানি থাকতে পারে। শনিবার বারুইপুরে নিহত নির্দোষ ইন্দ্রজিতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, নির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় দেখেই ইন্দ্রজিৎকে টার্গেট করে খুন করা হয়েছে। নির্বাচনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন এবং উগ্রপন্থীদের প্রকাশ্য মদদেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যারা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে কোনো রকম আপস বা ‘পেয়ার-মহব্বত’ করা হবে না। ইতিমধ্যেই ভিডিও ফুটেজ দেখে দিঘা ও বকখালি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পলাতক অভিযুক্তদের ধরেছে পুলিশ এবং এই হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলেও, তাঁর খুনিদের যে চরম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, সেই আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে একগুচ্ছ বড়সড় সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলের হাতে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি সমর্পণ করা হয়েছে, যাঁর পোস্টিং হবে নবনির্মিত সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই। দাঙ্গাকারীদের তাণ্ডবে ইন্দ্রজিতের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাড়িটি সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই থেকে বারুইপুরের এক নাবালিকা নিখোঁজ থাকার পর, ৫ জুলাই রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের এই নৃশংস ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। তবে সেই দিন নাবালিকার দেহ নিয়ে সূর্যপুরে তীব্র বিক্ষোভ দেখানোর সময়, উত্তেজিত জনতা কেবল সন্দেহের বশে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরীহ যুবক ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে হত্যা করে। গত মঙ্গলবারও বারুইপুরে এসে শুভেন্দু অধিকারী ইন্দ্রজিৎকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং শনিবাসরীয় সফরে এসে তিনি রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন।

Related Articles