Truth of Bengal: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনের ‘বিদঘুটে’ মূর্তি ভাঙার পর এবার কি তবে লেকটাউনের বিখ্যাত লিওনেল মেসির মূর্তির পালা? সোমবার সকাল থেকেই এই প্রশ্নে তোলপাড় উত্তর কলকাতার লেকটাউন এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য হাওয়া দিলেই ভিআইপি রোড সংলগ্ন মাঠের ওই বিশাল মেসি মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। যেকোনও মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবার বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ত দপ্তরের (PWD) ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, বড় বিপর্যয় এড়াতে সোমবার রাতেই এই ৭০ ফুটের মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হতে পারে।
খোদ মেসি করেছিলেন উদ্বোধন, আজ কেন এই দশা?
গত বছর ডিসেম্বর মাসে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিশেষ উদ্যোগে এবং শিল্পী মন্টি পালের তত্ত্বাবধানে এই বিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি তাঁর কলকাতা সফরের সময় ভার্চুয়ালি এই ৭০ ফুটের দীর্ঘ স্ট্যাচুটির উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই মূর্তির মুখের আদল নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিস্তর ক্ষোভ ও হাসিঠাট্টা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক অন্য জায়গায়। মূর্তির ঠিক নিচেই একটি বড় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় করে আইপিএলের (IPL) ম্যাচ দেখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আচমকা মূর্তিটি ভেঙে পড়ে, তবে বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। তাছাড়া দেখা গিয়েছে, মূর্তির নিচের অংশের মাটি ও পাথর ধসে গিয়ে চারপাশ আলগা হয়ে পড়েছে।
কাঠগড়ায় সুজিত বসু, সরব বিজেপি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, “তৎকালীন কাউন্সিলর নিতাই দত্ত ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অত্যন্ত নিম্নমানের মালমশলা দিয়ে তড়িঘড়ি এই মূর্তি খাড়া করেছিলেন। বর্তমান বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নজরেও বিষয়টি এসেছে।” উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত বসু। আর তাঁর গ্রেফতারির পরই এই মূর্তির বেহাল দশা সামনে আসায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে।
ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা মূর্তিটি পরিদর্শন করার পর প্রাথমিকভাবে এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছেন। যদিও প্রশাসনিকভাবে এখনও সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তবে নবান্ন সূত্রের ইঙ্গিত, জনস্বার্থ ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সোমবার রাতের অন্ধকারের মধ্যেই এই কাঠামোটি ভেঙে ফেলা হতে পারে।





