বঙ্গে এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ গতির শিল্প বিপ্লব! এবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা
মুখ্যমন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এই নবান্ন সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
Truth of Bengal: সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বিদায়ের পর পশ্চিমবঙ্গে যে বিপুল শিল্প সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটেছিল, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই খরা কাটেনি। বাম আমলের সেই ক্ষতে মলম লাগাতে পারেনি পরবর্তী তৃণমূল সরকারও। তবে মাত্র মাস দুয়েক আগে রাজ্যের শাসনক্ষমতায় এসে সেই দীর্ঘদিনের শিল্প-বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য— সকলেই এখন বাংলায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছেন। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিল্পপতির সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক এই পালাবদলের পর দেশীয় শিল্পমহলও বঙ্গে বিনিয়োগে নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত তিন দিনে করণ আদানি ও অশোক টোডির মতো শীর্ষ শিল্পপতিদের নবান্নে আগমনের পর, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।
মুখ্যমন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এই নবান্ন সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আরপিএসজি (RPSG) গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের একচেটিয়া এবং বৃহৎ বিনিয়োগ রয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন উপনগরী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল দায়িত্বে রয়েছে তাঁদেরই সংস্থা ‘সিইএসসি’ (CESC)। অতীতেও শাসক শিবিরের সঙ্গে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সম্পর্ক বরাবরই সুমধুর ছিল, তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলায় বিনিয়োগের অঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়াতে আগ্রহী এই শিল্পপতি। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকারের শিল্পনীতির ওপর তাঁরা গভীর নজর রাখছেন এবং এই মুহূর্তে বাংলায় লগ্নির জন্য একটি আদর্শ ও সদর্থক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ছাড়াও অন্যান্য নতুন ক্ষেত্রেও বিপুল পুঁজি বিনিয়োগের বড়সড় ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী। সেই সমস্ত নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকারের পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়েই এদিনের এই হাইপ্রোফাইল সাক্ষাৎকার। এর আগে আদানি গোষ্ঠীর করণ আদানি নিউটাউনে বিশ্বমানের হাসপাতাল গড়ার কথা ঘোষণা করে গিয়েছেন। পর পর তিন দিনে তিন শীর্ষ শিল্পপতির নবান্নে আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শিল্পপতিদের ধারণা, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার অর্থাৎ ‘ডবল ইঞ্জিন’ ব্যবস্থা থাকায় বাংলায় বিনিয়োগ করলে রাজনৈতিক জটিলতা বা লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ার ভয় থাকবে না, ফলে কাজের পরিবেশ অনেকটাই মসৃণ হবে। আর এই ভরসাতেই নতুন করে বাংলামুখী হচ্ছেন দেশের তাবড় পুঁজিপতিরা।






