রাজ্যের খবর

সবং থানায় টানা ৩ ঘণ্টা জেরা! হাইকোর্টের গুঁতোয় অবশেষে পুলিশের মুখোমুখি মানস ভুঁইয়া

হাইকোর্টের ডেডলাইনের পর অবশেষে সবং থানায় প্রাক্তন সেচমন্ত্রী! ৩ ঘণ্টার জেরায় রেকর্ড বয়ান

Truth of Bengal: সেচ দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা জালিয়াতির মামলায় এবার নজিরবিহীন আইনি বিপাকে রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রবীণ হেভিওয়েট নেতা মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia)। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) কড়া নির্দেশের পর অবশেষে আইনি রক্ষাকবচ হারিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানায় হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন তিনি। সেখানে টানা ৩ ঘণ্টা ধরে তদন্তকারী আধিকারিকদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।

গত ১০ জুন সবং বিধানসভা এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়তের এক ভুক্তভোগী যুবকের দায়ের করা এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের নোটিসকে দু-দু’বার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাজিরা এড়ালেও, শেষ রক্ষা হয়নি। মানস ভুঁইয়া আইনি ছাড় পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে, আদালত তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়।

আদালতের সেই জুজু মাথায় নিয়েই বৃহস্পতিবার ঠিক সকাল ১১:৩০ মিনিটে সবং থানায় ঢুকতে হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে। থানা সূত্রে খবর, ৩ ঘণ্টার এই রুদ্ধদ্বার জেরায় অভিযোগকারী যুবকের বয়ানের ভিত্তিতে মানসকে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হয় এবং তাঁর সমস্ত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ (Record) করা হয়েছে। ৩ ঘণ্টার জেরা শেষে থানা থেকে থমথমে মুখে বেরিয়ে এলেও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মুখে কুলুপ আঁটেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

৫ লাখের বিনিময়ে তেমাথানির সেচ বাংলোয় চাকরি, ২ মাসের মাথাতেই বরখাস্তের পর্দাফাঁস

মামলার এফআইআর অনুযায়ী, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিষ্ণুপুরের ওই যুবকের স্ত্রীকে ‘সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অধীনে সেচ দফতরে চাকরি দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়। তেমাথানি ইরিগেশন বাংলোতে (Temathani Irrigation Bungalow) তৎকালীন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতা ও উপস্থিতিতেই শেখ আবু কালান বক্স এবং ভোলানাথ দে নামক দুই এজেন্টের হাতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে মারাত্মক অভিযোগ। টাকা দেওয়ার পর গত মার্চ মাসে ওই মহিলা চাকরিতে যোগ দেন এবং প্রথম মাসের বেতনও পান। কিন্তু ঠিক ২ মাসের মাথায় আচমকাই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। টাকাও খোয়া গেল, চাকরিও গেল, এই জোড়া প্রতারণার পরেই সোজাসুজি প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি তোলে ওই পরিবার।

“আইন আইনের পথেই চলবে”, প্রাক্তন সেচমন্ত্রীর পরিণতি নিয়ে পারদ চড়ছে মেদিনীপুরে

পালাবদলের পর দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনায়। মানস ভুঁইয়া প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও, হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান তাঁর আইনি অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জেরা প্রসঙ্গে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “কথায় বলে, পাপ কোনওদিন বাপকেও ছাড়ে না। গরিব মানুষের টাকা নিয়ে যাঁরা চাকরির নামে জালিয়াতি করেছেন, আজ তাঁদের শাস্তি পেতেই হবে। আইন নিজের পথেই চলবে।”

Related Articles