বেলেঘাটায় ধুন্ধুমার! পার্টি অফিসের ভেতরে কুণাল ঘোষ, বাইরে উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান
বেলেঘাটায় ব্যাপক উত্তেজনা! পার্টি অফিসে ঢুকে কুণাল ঘোষকে ‘চোর’ স্লোগান স্থানীয়দের
Truth of Bengal: ছাব্বিশের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। ফলতার পুনর্নির্বাচনে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ চুরমার হওয়ার পর রবিবারই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বারাসাত সংসদীয় জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আর সেই রবিবার রাতেই কলকাতায় এক বেনজির জনরোষের মুখে পড়লেন বেলেঘাটার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয়ে তাঁকে আটকে রেখে বাইরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
ঘর না পেয়ে ক্ষোভ, টিনের বাড়িতে কাটছে দিন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রবিবার সন্ধ্যায় বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল দলীয় কার্যালয়টি খোলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বসে থাকাকালীনই রাত ৯টা নাগাদ আচমকা শয়ে শয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অফিসটি ঘিরে ফেলেন। বেশ কিছু বিক্ষোভকারী সোজা অফিসের ভেতরে ঢুকে চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, KMDA-এর একটি আবাসন প্রকল্পে তাঁদের পাকা ঘরের বদলে ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী ও খোদ মেয়র। ২০২৫ সালের শেষের মধ্যে সেই ঘর পাওয়ার কথা থাকলেও, তাঁদের কপালে জুটেছে স্রেফ টিনের চালের ঘর।
‘কাউন্সিলর দার্জিলিংয়ে ঘুরছেন!’ ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা
এদিন বিক্ষোভের সময় কাঠগড়ায় তোলা হয় স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীকে। বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা ছোট ছোট বাচ্চা আর ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে টিনের ঘরে অমানুষিক কষ্ট পাচ্ছি। আর আমাদের এই নরকযন্ত্রণায় রেখে আমাদের কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী দার্জিলিংয়ে হাওয়া খেতে গিয়েছেন! এমন কাউন্সিলরের আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই।” কাউন্সিলর এলাকায় উপস্থিত না থাকায় জনরোষের পুরো আঁচ গিয়ে পড়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর।
যদিও এই বিক্ষোভের মুখে পড়ে কুণাল ঘোষ স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, অনুপস্থিত কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে KMDA দ্রুত কাজ করছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সবাই পাকা ঘর পেয়ে যাবেন। বিধায়কের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি মেলার পর এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে বেশ কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা পিছু হটেন। তবে ছাব্বিশের বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতার বুকেই শাসকদলের বিধায়কের এমন ‘চোর’ স্লোগান শোনার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।




