চার্টার্ড বিমানে অভিষেকের দিল্লি যাত্রা ঘিরে জল্পনা, ‘পার্টির টাকায় হলে সমর্থনযোগ্য নয়’, বললেন কুণাল
তাঁর সাফ বক্তব্য, পার্টির টাকায় অভিষেক যদি চার্টার্ড বিমানে দিল্লি গিয়ে থাকেন, তবে তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়
Truth of Bengal: চার্টার্ড বিমানে দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—এই জল্পনা ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের ভরাডুবি, দলীয় ভাঙন এবং কোষাগার নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই অভিষেকের দিল্লি সফর নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর সাফ বক্তব্য, পার্টির টাকায় অভিষেক যদি চার্টার্ড বিমানে দিল্লি গিয়ে থাকেন, তবে তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে চরম অস্থিরতা চলছে। দলের একাধিক নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়েছেন বহু বিধায়ক ও সাংসদ। সূত্রের দাবি, তৃণমূলের ৬৮ জন বিধায়ক এবং ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে চলে গিয়েছেন। লোকসভায় এখন তৃণমূলের হাতে রয়েছে মাত্র ৮ জন সাংসদ।
এই পরিস্থিতিতে দলের কোষাগার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় অর্থ কারা ব্যবহার করবেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এমনকি তৃণমূলের প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই শুক্রবার ফের কলকাতা থেকে দিল্লি যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার ২০ বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেওয়ার পর তাঁরা তৃণমূলের প্রতীক দাবি করতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার আগেই দল ও প্রতীক বাঁচাতে মরিয়া অভিষেক দিল্লি গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। বিদ্রোহী ২০ সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে স্পিকারের কাছে পৃথক চিঠিও জমা দেন তিনি।
স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিষেক বলেন, “সংবিধানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, আগে থেকে একটি দলে যুক্ত থাকার পর অন্য দলে গেলে সেই দলের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। সেই হিসাবে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসা লোকসভার সদস্যদের পদ বাতিল হওয়ারই কথা।” কিন্তু এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই অভিষেকের দিল্লি যাত্রা নিয়ে অন্য বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। গুঞ্জন, তিনি চার্টার্ড বিমানে দিল্লি গিয়েছেন। দিন কয়েক আগেও ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়েছিলেন এবং পরে কলকাতায় ফেরেন। সেই সময়ও চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের জল্পনা উঠেছিল। এবার ফের দিল্লি সফর ঘিরে একই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
দলের এমন ডামাডোল অবস্থায়, যখন তৃণমূলের সংগঠন ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে, তখন দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড কীভাবে চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত করেন—তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই কুণাল ঘোষের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ব্যক্তিগত খরচে বা অন্য কোনও ব্যবস্থায় অভিষেক চার্টার্ড বিমানে গিয়ে থাকেন, তা আলাদা বিষয়। কিন্তু পার্টির টাকায় যদি এই যাত্রা হয়ে থাকে, তবে তা সমর্থন করা যায় না। তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি আরও প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






