দেশ

দিনের পর রাতেও দিল্লিতে ঊর্ধ্বমুখী পারদ ৯ দিন উত্তর ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দিল্লিতে দিনের তাপমাত্রা থাকবে ৪৩ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

Truth of Bengal: গত দুই বছরে এমন ভয়াবহ গ্রীষ্ম দেখেনি রাজধানী। দিল্লি ও এনসিআরের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা এখন ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শুধু দিনে নয়—রাতেও গনগনে উত্তাপে পুড়ছে দিল্লি। ফলে ঘুম হারাম হচ্ছে সাধারণ মানুষের। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৯ দিন গোটা উত্তর ভারত জুড়েই পারদ মগডালে উঠবে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দিল্লিতে দিনের তাপমাত্রা থাকবে ৪৩ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও থাকবে ২৬ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। গুরগাঁও এবং এনসিআরের বিভিন্ন অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেশি থাকার মূল কারণ শহরের গঠন এবং দ্রুত নগরায়ণ। দিল্লি জুড়ে কংক্রিটের রাস্তা, ইটের তৈরি বাড়ি, অ্যাসফল্ট ও ঘনবসতির ফলে সারাদিন তাপ শোষণ করছে শহর। সেই সঞ্চিত তাপই সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড এফেক্ট’। এর ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় শহরের তাপমাত্রা ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

পরিবেশবিদদের মতে, দিল্লিতে গাছপালার সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সবুজের অভাব থাকায় প্রকৃতির স্বাভাবিক তাপ শোষণের ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ফলে গরম আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এদিকে আগুনে গরমে দিল্লির জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। রাস্তায় বেরনোই কঠিন হয়ে উঠেছে। ছাতা বা জল সঙ্গে রেখেও বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে হিটস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই ছায়ায় থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশকর্মীরা আবারও দিল্লির সবুজ ধ্বংস এবং নগরায়ণের লাগামছাড়া বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সব মিলিয়ে দিল্লি-এনসিআরে তাপপ্রবাহের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর।

Related Articles