দেশ

রাহুল গান্ধীর পোস্টে নরওয়ের বদলে সুইডেনের পতাকা! ভুল ধরে সোশ্যালে তীব্র আক্রমণ অমিত মালব্যের!

বিরোধী দলনেতার পক্ষ থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছিল, যা ঘিরেই এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত

Truth of Bengal: কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে একটি তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্ট করে রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া টিমের বিরুদ্ধে চরম অজ্ঞতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে আক্রমণ শানাতে গিয়ে বিরোধী দলনেতার পক্ষ থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছিল, যা ঘিরেই এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।

অমিত মালব্যের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সমালোচনা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধীর টিম নরওয়ের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে সুইডেনের পতাকা ব্যবহার করে ফেলেছে। এই ভুলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, এটাই বিরোধী দলনেতার দপ্তরের গবেষণার মান এবং খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগের স্তর। মালব্য কটাক্ষের সুরে আরও মন্তব্য করেন যে, রাহুল গান্ধীর উচিত অবিলম্বে তাঁর এই সোশ্যাল মিডিয়া টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বরখাস্ত করা, কারণ এই ধরণের ভুল বিরোধী দলনেতার ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তিনি রাহুল গান্ধীকে দেশের সবচেয়ে অদক্ষ বিরোধী দলনেতা হিসেবেও অভিহিত করেন।

বিজেপির এই কড়া আক্রমণের মুখে অবশ্য পিছু হটতে রাজি নয় কংগ্রেস শিবির। তাদের পক্ষ থেকে এই পতাকা বিভ্রাটের ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফর এবং দেশের স্বার্থে তার আসল ফলাফল কী হলো—তা নিয়েই মূল আলোচনা হওয়া উচিত, কোনো প্রতীক বা পতাকা বিভ্রাট নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানো ঠিক নয়। তবে এই রাজনৈতিক তরজা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি নরওয়ে সফরে গিয়েছেন। সেই সফরকে নিশানা করেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী কি আদানির হয়ে অনুরোধ করতে নরওয়ে সফরে গিয়েছিলেন এবং সে দেশের সরকার কি তাঁর কথা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নরওয়ে সফরকে কেন্দ্র করে অবশ্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার নরওয়ের মাটিতে পা রাখার পর সেখানে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট সমালোচনা শুরু হয়। এর পাশাপাশি, নরওয়ের একটি প্রথম সারির সংবাদপত্র মোদিকে সাপুড়ে হিসেবে চিত্রিত করে একটি ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Related Articles