রাজ্যের খবর

কাঁধে কোদাল, পরনে সাধারণ লুঙ্গি! বিধায়ক হয়েও মেঠো পথেই বিপ্লব খুঁজছেন ডোমকলের রানা

কোদাল কাঁধে বিধায়ক! মাঠ থেকে বিধানসভা, ডোমকলের ‘ঘরের ছেলে’ মোস্তাফিজুর রহমান রানা

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: ভোরের আলো ফুটতেই কাঁধে কোদাল নিয়ে মাঠের পথে বেরিয়ে পড়েন তিনি। নিজের কলাবাগানে গিয়ে গাছের তদারকি করেন, মাটি কোপান। সারাদিনের রাজনৈতিক ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগে এটাই তাঁর চিরচেনা রুটিন। তিনি ডোমকলের নবনির্বাচিত সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানা। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হলেও তাঁর জীবনযাপনে একবিন্দুও পরিবর্তন আসেনি। আজও তিনি নিজেকে একজন কৃষক এবং সাধারণ মানুষের ঘরের লোক হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

​দীর্ঘদিন বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রানা দলের ‘হোলটাইমার’ হিসেবে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে রাজ্যে বামেদের শূন্যতা কাটিয়ে একমাত্র বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েও তাঁর সাদামাটা চলন-বলন অবাক করছে অনেককেই। ব্যক্তিগত বিলাসিতা তাঁকে স্পর্শ করেনি। তাঁর পরিবারের প্রধান ভরসা স্ত্রীর আয়, যিনি একটি কলেজে কর্মরত। সেই সামান্য আয়েই টেনেটুনে চলে সংসার। বিধায়ক হওয়ার পরেও সেই পুরনো মোটরসাইকেল চেপেই এলাকায় ঘুরে বেড়ান তিনি, কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেন।

​এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা প্রাক্তন পুলিশ সুপার ডঃ হুমায়ুন কবীরকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন রানা। ডোমকল মানেই যেখানে একসময় ছিল অশান্তি আর বারুদের গন্ধ, সেখানে এবারের নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা গাজী রহমান ও মিলন সেখদের কথায়, “আমরা স্থানীয় ঘরের ছেলেকে বিধায়ক হিসেবে চেয়েছিলাম। রানা ভাই আমাদের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকেন। এখন বিধায়ক হওয়ার পরেও তাঁকে খুব সহজেই কাছে পাওয়া যাচ্ছে, এটা আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।” এলাকাবাসীর আশা, এই ‘মাটির মানুষ’ বিধায়কের হাত ধরেই ডোমকলে উন্নয়নের গতি ফিরবে।

অন্যদিকে, মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, “৩৬৫ দিন মানুষের সঙ্গেই থাকি। বিধায়ক হওয়ায় কাজের পরিধি আরও বেড়েছে। তৃণমূলের শাসনকালে ডোমকলকে যেভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই স্থবিরতা কাটিয়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এলাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ডোমকলের মানুষের প্রতিটি সমস্যার কথা আমি তুলে ধরব।” রাজ্যে বামেদের উত্থানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও আশাপ্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আরও বাড়বে।

Related Articles