মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা, খাস কলকাতায় পুলিশের জালে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাও নেত্রী
Truth of Bengal: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার এক হাই-ভোল্টেজ অভিযানে নামল কলকাতা পুলিশ। ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হল ঝাড়খণ্ডের ত্রাস তথা মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে। মূলত নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘকাল ধরে তিনি ঝাড়খণ্ড ও বাংলার মাওবাদী নেটওয়ার্কের প্রধান কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছিলেন।
২৩টি মামলা ও ১৫ লক্ষ টাকার ইনাম
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার অজয় নন্দা জানান, শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে খুন, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অন্তত ২৩টি গুরুতর মামলা রয়েছে। তাঁর অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে ঝাড়খণ্ড সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১৫ লক্ষ টাকা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ফেরার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভাঙড় এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন বলে খবর পায় সাইবার সেল ও গোয়েন্দা বিভাগ।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ করবে জেরা
পুলিশ কমিশনার জানান, “শ্রদ্ধাকে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত তাঁকে আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর অপরাধের ক্ষেত্র মূলত ঝাড়খণ্ড হওয়ায়, সে রাজ্যের পুলিশ এসে তাঁকে জেরা করবে।” এই গ্রেফতারির ফলে বাংলার বুকে ফের মাওবাদী মাথাচাড়া দেওয়ার কোনও ছক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাধাই পাত্রের আত্মসমর্পণ: শান্তির আহ্বান
এদিন বেলার গ্রেফতারির পাশাপাশি আর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘদিনের লড়াই এখন দিশাহীন। মাধাই বলেন, “জঙ্গলে যাঁরা আমাদের পুরনো সঙ্গী রয়েছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, বন্দুক ছাড়ুন এবং সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসুন।” সরকার তাঁকে পুনর্বাসনের নীতি অনুযায়ী সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
লালবাজারের এই জোড়া সাফল্যে মাওবাদী দমনে রাজ্য পুলিশের দাপট ফের প্রমাণিত হল। ভাঙড়ের মতো এলাকায় মাওনেত্রীর উপস্থিতি নতুন করে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও, বেলার গ্রেফতারি বড়সড় স্বস্তি দিচ্ছে গোয়েন্দাদের।

