দেশ

আপ ছেড়ে বিজেপিতে যেতেই সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় দায়ের এফআইআর

এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকাল থেকে দিল্লির লোদী এস্টেট এলাকায় সন্দীপ পাঠকের সরকারি বাংলোর সামনে নিরাপত্তা ও পুলিশি তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়।

Truth of Bengal: আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়ালেন রাজ্যসভার সাংসদ সন্দীপ পাঠক। সূত্রের খবর, পাঞ্জাবের দু’টি পৃথক জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় দু’টি মামলা দায়ের করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। ফলে যে কোনও মুহূর্তে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকাল থেকে দিল্লির লোদী এস্টেট এলাকায় সন্দীপ পাঠকের সরকারি বাংলোর সামনে নিরাপত্তা ও পুলিশি তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়ে, পাঞ্জাব পুলিশের একটি দল তাঁকে হেফাজতে নিতে দিল্লিতে পৌঁছতে পারে। আর সেই আবহেই ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে। ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বাসভবনের মূল ফটকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি এড়িয়ে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে দ্রুত একটি গাড়িতে উঠে এলাকা ছেড়ে চলে যান সন্দীপ পাঠক। সূত্রের দাবি, এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তিনি কোনও অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এদিকে বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে দলের লিগ্যাল সেলকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আদালত থেকে রক্ষাকবচ পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও সূত্রের খবর। যদিও ঠিক কী অভিযোগে সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত পাঞ্জাব পুলিশের তরফে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, অত্যন্ত গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল আপ-এর অন্দরে বড়সড় ভাঙন দেখা দেয়। একযোগে সাত জন রাজ্যসভার সাংসদ দলত্যাগের ঘোষণা করেন—রাঘব চড্ডা, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রমজিৎ সাহানি এবং স্বাতী মালিওয়াল। স্বাতী মালিওয়াল বাদে বাকি ছ’জনই পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করতেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদ এড়াতে তাঁরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন বলেই দাবি।

দলত্যাগের পরে পাঞ্জাব বিধানসভায় শক্তিপ্রদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। ১১৭ সদস্যের বিধানসভায় আপ-এর ৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে ৮৮ জন তাঁর পক্ষে ভোট দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করলেও মান এই দলবদলকে ‘বেআইনি’ এবং ‘জনগণের রায়ের অবমাননা’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। সূত্রের খবর, আগামী ৫ মে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে তিনি এই সাংসদদের পদ খারিজের দাবিও জানাতে পারেন।

 

 

Related Articles