বেঙ্গালুরুর সামনে ৭৫ রানেই আত্মসমর্পণ! মরশুমের সর্বনিম্ন স্কোরে লজ্জার রেকর্ড দিল্লির
ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং এবং যশ হ্যাজলউডের শর্ট বলের আক্রমণে ব্যাটাররা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েন।
Truth of Bengal: মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দুই ম্যাচে ভরাডুবি— দিল্লির শিবিরে এখন যেন হতাশার ছায়া। প্রথমে বড় রান করেও জয় হাতছাড়া, তারপর আবার ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতা। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ৭৫ রানে অলআউট হওয়ার পর অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলের মুখেও স্পষ্ট ধাক্কার ছাপ। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা তাঁর কাছেও পরিষ্কার নয়।এই ম্যাচে শুরু থেকেই বিপর্যয় নামে দিল্লির ইনিংসে। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে দল কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। মাত্র ৯ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই ছিল না। প্রতিপক্ষের বোলাররা নিখুঁত পরিকল্পনায় বল করেন। ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং এবং যশ হ্যাজলউডের শর্ট বলের আক্রমণে ব্যাটাররা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েন।
ফলাফল হিসeবে এই মরশুমে এটাই সবচেয়ে কম রানের ইনিংস হয়ে দাঁড়ায়। এত কম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা সহজেই জয় তুলে নেয়। নয় উইকেটে ম্যাচ জিতে তারা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ম্যাচ শেষে অক্ষর বলেন, ক্রিকেট এমন একটি খেলা যেখানে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। এক মুহূর্তের ভুলেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই এই হার ভুলে সামনে এগোনোর কথাই বলেন তিনি। তাঁর মতে, অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে লাভ নেই, বরং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে তিনি এটাও মানেন, আগের ম্যাচগুলির কিছু ভুল এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। কোথাও সহজ রান নেওয়া হয়নি, কোথাও আবার সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। এসব ছোট ভুলই বড় প্রভাব ফেলেছে দলের পারফরম্যান্সে। কিন্তু ক্রিকেটে ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’র কোনও জায়গা নেই— এই বাস্তবতা মেনেই এগোতে চান তিনি।
অক্ষর আরও বলেন, প্রতিপক্ষের বোলিং ভাল ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়। তাঁর মতে, শুরুতে ব্যাটাররা যদি কিছুটা ধৈর্য ধরে খেলতে পারত, তাহলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বোলারদের কথায়, শুরুতে পিচে কিছুটা সাহায্য ছিল, যা তারা কাজে লাগাতে পেরেছেন। প্রথম কয়েক ওভারেই উইকেট তুলে নেওয়ায় ম্যাচের দিক ঘুরে যায়। পরে বল নরম হয়ে গেলে ব্যাট করা সহজ হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে দিল্লির জন্য এই সময়টা কঠিন হলেও, এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।






