ভারত ও চীনকে চরম অবমাননা! বিতর্কের মুখে ট্রাম্প
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বন্ধ করা।
Truth Of Bengal: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রেডিও হোস্ট মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেছেন, যেখানে ভারত, চীনসহ বেশ কিছু দেশকে ‘নরকের গর্ত’ (hell-holes) বলে অভিহিত করা হয়েছে। নিজের বর্ণবাদী বক্তব্যে স্যাভেজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে মহিলারা গর্ভাবস্থার নবম মাসে আমেরিকায় আসেন শুধুমাত্র একটি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য, যাতে ওই শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। স্যাভেজ এই অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন যে তারা আমেরিকার পতাকাকে অপমান করেছে এবং দেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্কিত পডকাস্টের ভিডিও এবং অনুলিপি শেয়ার করে মূলত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। স্যাভেজ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, মার্কিন সংবিধান যখন লেখা হয়েছিল তখন বিমান পরিষেবা বা ইন্টারনেটের অস্তিত্ব ছিল না, তাই বর্তমান সময়ের ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্বের অপব্যবহার রুখতে এই আইন পরিবর্তন করা জরুরি। ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এই কট্টরপন্থী চিন্তাধারা প্রচার করেছেন এবং সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, আমেরিকা ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে এমন আইন নেই। যদিও বাস্তবে কানাডা, মেক্সিকোসহ প্রায় ৩৬টি দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম প্রচলিত রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বন্ধ করা। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এই নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেয়। বর্তমানে এই বিষয়টি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই মামলার শুনানি প্রসঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আদালত যদি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে রায় দেয়, তবে তা আমেরিকার বিপুল অর্থহানি ঘটাবে এবং দেশের মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এবং বর্ণবাদী বক্তব্য শেয়ার করা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।





