প্রার্থনার মাঝেই পরিকল্পিত হামলা, জার্মানির গুরুদ্বারে ব্যাপক সংঘর্ষ
চোখের পলকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেঁধে গেল সংঘর্ষ।
Truth Of Bengal: শান্ত প্রার্থনার জায়গা মুহূর্তে বদলে গেল আতঙ্কের অন্ধকারে। জার্মানির মোয়ার্স শহরের একটি গুরুদ্বারে রবিবার যা ঘটল, তা যেন বিশ্বাসই করা কঠিন। ভক্তদের ভিড়, প্রার্থনার প্রস্তুতি— সবকিছু ছাপিয়ে আচমকাই শুরু হল ভয়ংকর হামলা।
চোখের পলকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেঁধে গেল সংঘর্ষ। কৃপাণ, ছুরি, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র— সবকিছুই বেরিয়ে এল হাতে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে গুলিও চলে। আতঙ্কে ছুটতে শুরু করেন উপস্থিত মানুষজন। কেউ প্রাণ বাঁচাতে দরজার দিকে দৌড়চ্ছেন, কেউ আবার লুকানোর জায়গা খুঁজছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলা হঠাৎ নয়— পরিকল্পনা করেই একটি দল গুরুদ্বারে ঢুকেছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগেই পেপার স্প্রে ছড়িয়ে চারপাশ অচল করে দেওয়া হয়। চোখে জ্বালা আর বিশৃঙ্খলার সুযোগে শুরু হয় ছুরি ও বন্দুক নিয়ে আক্রমণ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছে যে বোঝার সময়ই পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, হামলাকারীদের আচরণে স্পষ্ট ছিল তারা প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল।
এই সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। বেশিরভাগের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুদ্বারের ভিতরে ছড়িয়ে থাকা রক্ত আর ভাঙচুরের চিহ্ন গোটা ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
কেন এই হামলা? পুলিশ এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, গুরুদ্বারের কমিটির নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই চাপা উত্তেজনাই শেষমেশ বিস্ফোরণের রূপ নেয়।
ঘটনার পর বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় ৪০ জন এই সংঘর্ষে জড়িত ছিল বলে অনুমান। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
একটি ধর্মীয় স্থানে এমন হিংসা শুধু স্থানীয় নয়, বৃহত্তর সমাজের কাছেও এক বড় সতর্কবার্তা। যেখানে প্রার্থনার জায়গা, সেখানে যদি অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যায়— তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই অশান্তির শেষ কোথায়?


