আন্তর্জাতিক

ইরান শান্তি বৈঠক বয়কটের জেরে ফের বাড়ল তেলের দাম

প্রসঙ্গত, গত মাসে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার পার করেছিল।

Truth Of Bengal: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল ‘ইসলামাবাদ শান্তি বৈঠক ২.০’। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরান জানিয়ে দেয়, তারা ওই আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের এই সিদ্ধান্তের জেরে কার্যত ভেস্তে গেল দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিমান ও যানবাহন ভাড়াও ব্যাপকভাবে বাড়বে। যার জেরে ফের মুদ্রাস্ফীতি মাথাচাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫.৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল পিছু ৯৫.২৩ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৬.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৮.৯৮ ডলার। তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে খুব শীঘ্রই ব্যারেল পিছু দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

প্রসঙ্গত, গত মাসে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার পার করেছিল। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমে। কিন্তু বর্তমানে ফের হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান। তার উপর দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের এই ঊর্ধ্বগতি ভারতকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। ফলে তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর চাপ বাড়বে। পাশাপাশি রং, টায়ার এবং রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরই চাপাতে বাধ্য হবে শিল্প সংস্থাগুলি। ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও গুরুতর আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা। এদিকে আগামী ২২ এপ্রিল (বুধবার) বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসায় এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকির প্রেক্ষিতে বুধবারের পর ফের বড়সড় বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।