আন্তর্জাতিকপ্রযুক্তি

প্লাস্টিক দূষণ রুখবে প্রকৃতি! বিজ্ঞানীদের হাতে এল আশ্চর্য ‘প্লাস্টিকখেকো’ গাছ

ভারতের ৯০%-এর বেশি প্লাস্টিকের দূষণের কারণ হল অপ্রক্রিয়াজাত পুর বর্জ্য

Truth Of Bengal: গোটা বিশ্বে প্রতি বছর প্লাস্টিকের দূষণ সৃষ্টিকারী ৫৭ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে মেশে। সমুদ্রের অতল থেকে পাহাড় চূড়ায়, স্থলে, জলে, আকাশে এমনকী মানুষের শরীরেও আজ প্লাস্টিকের কণা মিলেছে। দ্য গার্ডিয়ান সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্কের পাশাপাশি ফুসফুস, প্লাসেন্টা, লিভার, কিডনি, জননেন্দ্রিয়, হাঁটু, কনুই, রক্তনালি ও অস্থিমজ্জাতেও মাইক্রো প্লাস্টিকের কণা মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্লাস্টিকের দূষণ ঠেকাতে সক্ষম যে ‘প্রাকৃতিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’ প্রকৃতিতেই রয়েছে, তা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইতালিতে সম্প্রতি ফ্লোরেন্স শহরের একটি গ্রিনহাউসে একটি প্লাসিকখেকো গাছের খোঁজ মিলেছে। নিঃসন্দেহে এই নয়া প্রজাতির গাছের আবিস্কার বিশ্বজুড়ে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতালির উদ্ভিদবিদরা এক বিশেষ জলজ উদ্ভিদের খোঁজ পেয়েছেন যা দূষিত জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ভারী ধাতু শোষণ করতে সক্ষম। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা’ (Pistia Magnifica)। এটি বহুল পরিচিত ওয়াটার লেটুস বা টোপাপানার একটি প্রজাতি।

গবেষণায় দেখা গেছে, নয়া প্রজাতির উদ্ভিদের শেকড়ে বিশেষ ধরনের লিগনিন-মডিফায়েড এনজাইম রয়েছে, যা পলিথিন ও পলিস্টাইরিনের মতো ক্ষতিকারক সিন্থেটিক কণাকে আকর্ষণ করে আটকে ফেলে। নদী বা জলাশয়ের জল এই গাছের শেকড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় গাছের শেকড়গুলো ওই দূষিত কণাগুলোকে ধরে ফেলে এবং গাছের ভেতরে টেনে নেয়। মাত্র ১ বর্গমিটার জায়গায় থাকা এই উদ্ভিদ এক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০০ লিটার জল থেকে ৯২% পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক শুষে নিতে পারে। শোষিত বর্জ্য গাছের ভেতরেই সঞ্চিত থাকে। তাই পরে এই গাছ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে তাপশক্তি উৎপাদন করা সম্ভব। অর্থাৎ, এবার দূষণ থেকেই তৈরি হতে চলেছে শক্তি। গাছটি জলের উপর ভাসে, দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জল পরিষ্কার করতে থাকে। ইতালির বিভিন্ন পুরসভা এরমধ্যে শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন খাল ও জলাশয়ে এই পদ্ধতি কার্যকর করা শুরু করেছে।

লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর প্লাস্টিকের বর্জ্য যা পরিবেশে মেশে তার দুই-তৃতীয়াংশ আসে ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে। ৫০ হাজারের বেশি শহর থেকে গ্রামে গবেষণা চালানো হয়। গবেষকরা যে সব প্লাস্টিকের বর্জ্য ভালো ভাবে ধ্বংস করা হয় না আর পরিবেশে মিশে গিয়ে দূষিত করছে তা নিয়ে গবেষণা চালান।

গবেষকদের দাবি, গোটা বিশ্বে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া আর সাব সাহারান আফ্রিকা প্লাস্টিকের দূষণের নিরিখে সবচেয়ে দূষিত। সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিকের বর্জ্যের কারণে দূষিত শহর হল নাইজেরিয়ার লাগোস। ভারতের ৯০%-এর বেশি প্লাস্টিকের দূষণের কারণ হল অপ্রক্রিয়াজাত পুর বর্জ্য। ২০২০ সালে বিশ্ব জুড়ে ৫২ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে মিশেছে। দুই-তৃতীয়াংশ প্লাস্টিকের দূষণের কারণ হল এই অপ্রক্রিয়াজাত বর্জ্য।

Related Articles