পুরুষ-অভারতীয়দের অ্যাকাউন্টেও যাচ্ছিল টাকা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ
মহিলাদের প্রকল্পে পুরুষের অ্যাকাউন্ট! ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা ছাঁটাই করে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ আনলেন শুভেন্দু
Truth of Bengal: তিলোত্তমার বুকে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে এক অভূতপূর্ব ও তোলপাড় করা সংস্কারের কথা ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে এতদিন সরকারি কোষাগারের টাকা ঢুকছিল। এর মধ্যে যেমন রয়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম, তেমনই অবাক করা বিষয় হলো, বহু মৃত ব্যক্তি এবং পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও যাচ্ছিল এই মহিলাদের প্রকল্পের টাকা! এই দুর্নীতি সমূলে উপড়ে ফেলতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “এই টাকা শুধু রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই পাবেন, কোনও রাকিবুল নন।”
২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করলেই ৩ তারিখ সরাসরি ব্যাংকে টাকা!
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অভারতীয় নাগরিক, অনুপ্রবেশকারী কিংবা জালিয়াতি করে নাম তোলা পুরুষদের অ্যাকাউন্টগুলি এবার স্থায়ীভাবে ব্লক করা হচ্ছে। এই ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়ার জন্যই আজ, অর্থাৎ ২৭ মে থেকেই রাজ্যজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন ফর্ম দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।
উপভোক্তাদের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২ জুনের মধ্যে যাঁরা এই নতুন ফর্ম পূরণ করে সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আগামী ৩ জুন থেকেই নতুন প্রকল্পের টাকা ঢুকে যাবে। তবে সাধারণ নারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পূর্ণভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া অব্যাহত থাকবে। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকা শুরু হওয়া মাত্রই পুরনো পরিষেবাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
কারা পাবেন না এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?
নতুন সরকারের এই অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া আইনি ও অর্থনৈতিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে:
-
কোনও অভারতীয় বা বিদেশি নাগরিক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
-
যাঁরা নিয়মিত আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন, তাঁরা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
-
আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারে যদি কেউ সরকারি কিংবা সরকার পোষিত কোনো সংস্থায় স্থায়ী চাকরি করেন, তবে তাঁরা এই যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
বিগত একুশের নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু হলেও, তার বণ্টন নিয়ে বারবার স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর শুভেন্দু সরকারের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভুয়ো উপভোক্তাদের যেমন বড় ধাক্কা দিল, তেমনই প্রকৃত ভারতীয় ও প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত করার পথে এক বড় পদক্ষেপ।






