লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট? সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো বা অবৈধ অ্যাকাউন্টে এত দিন ধরে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকছিল
Truth of Bengal: বিগত সরকারের জমানায় চালুর পর থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় একাধিক গরমিল ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই সমস্ত অভিযোগের পক্ষে এক বিস্ফোরক পরিসংখ্যান ও তথ্য সামনে আনলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট দাবি করেছেন যে, রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো বা অবৈধ অ্যাকাউন্টে এত দিন ধরে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকছিল। এই অবৈধ উপভোক্তাদের মধ্যে শুধু বেআইনি অনুপ্রবেশকারী মহিলারাই নন, বরং বহু মৃত ব্যক্তি এবং পুরুষের অ্যাকাউন্টেও নিয়মিত সরকারি অর্থ পাঠানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “শুধু রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই পাবেন এই টাকা, কোনও রাকিবুল নন।” তাঁর এই কড়া বার্তার মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে, নতুন বিজেপি সরকারের তৈরি করা ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার) উপভোক্তা তালিকা থেকে এই ধরণের সমস্ত ভুয়ো ও অবৈধ আবেদনকারীদের চিরতরে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, পুনরায় ক্ষমতায় এলে বাংলার মা-বোনেদের আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করবেন। নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই সেই কথা রেখে প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, যার সুবিধা পাচ্ছিলেন রাজ্যের ২ কোটিরও বেশি মহিলা। তবে প্রকল্প চালুর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে লাগাতার অভিযোগ আসছিল যে, বহু ভুয়ো এবং অযোগ্য আবেদনকারীর নাম তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এর ফলে যে সমস্ত দুঃস্থ ও প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের এই আর্থিক সাহায্য পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এমনকি সরকারি কোষাগারের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঘটনাও একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছিল।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই সমস্ত জল্পনা ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত ও স্ক্রুটিনির মাধ্যমে দেখা গিয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ অবৈধ অ্যাকাউন্টে এই টাকা যাচ্ছিল। তবে নতুন নিয়মে আর সেই দুর্নীতির কোনও জায়গা থাকবে না। নবান্ন সূত্রে ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) এবং জন্ম-মৃত্যু পোর্টাল মিলিয়ে দেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই সমস্ত ভুয়ো নাম ও মৃত ব্যক্তিদের তালিকা বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে ভুয়ো উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টগুলি চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে, যার ফলে প্রকৃত দুঃস্থ ও রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় নারীদের হাতেই সরাসরি ৩ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।





