দেশ

জাতীয় স্বার্থে কোনও আপস নয়, মার্কিন বিদেশসচিবের সামনে কড়া অবস্থান অজিত ডোভালের

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে রুবিয়োর সঙ্গে ডোভালের বৈঠক হলেও, তখন সেই আলোচনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।

Truth Of Bengal: আমেরিকার কোনও ধরনের ‘দাদাগিরি’ ভারত মেনে নেবে না—এই স্পষ্ট বার্তাই ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে দিয়ে এসেছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ভারত কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি করবে না, সে কথাও পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন তিনি। এমনকি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও ভারত প্রস্তুত—এমন অবস্থানও তুলে ধরেন ডোভাল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে রুবিয়োর সঙ্গে ডোভালের বৈঠক হলেও, তখন সেই আলোচনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ভারত–আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েনের আবহে বাণিজ্যসমঝোতা নিয়ে জল্পনা চলার মধ্যেই প্রায় পাঁচ মাস পরে ওই বৈঠক সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করল ব্লুমবার্গ। তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে ভারত বা আমেরিকা—কোনও দেশই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে হওয়া ডোভাল–রুবিয়ো বৈঠক সম্পর্কে অবগত এমন একাধিক শীর্ষ কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সেই সূত্রেই বৈঠকের অন্দরমহলের কিছু তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ভারতের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন ডোভাল। তিনি জানিয়ে দেন, কোনও পরিস্থিতিতেই নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে যাবে না ভারত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোভাল রুবিয়োকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কোনও ধরনের চাপ বা ‘দাদাগিরি’ ভারত মেনে নেবে না। প্রয়োজনে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত ভারত—এমন দৃঢ় বার্তাই দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এক মঞ্চে দেখা যাওয়ায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটনে ডোভাল ও রুবিয়োর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles